৩০ মণ ওজনের ‘বস’ এর দাম ১৫ লাখ টাকা
আড়াইহাজার প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৩, ০৫:৫২ পিএম
আড়াইহাজারে এবছর কোরবানির পশু’র হাটে উঠছে প্রায় ৩০ মণ ওজণের ‘বস’ খ্যাত শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়। এটিকে দেখতে প্রতিদিনই উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়নাবাদ এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউলের বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার নানা বয়সের শিশুসহ নারী-পুরুষ। বিশাল আকারের এই ষাঁড়ের দাম হাকানো হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। মঙ্গলবার আড়াইহাজার পৌরসভার অস্থীয় পশু’র হাটে ষাঁড়টি উঠানো হবে। এর খাবার তালিকায় রয়েছে খড় ও ভুষি সহ নানা ধরনের ফলফলাদি। ৮ইঞ্চি লম্বা ও ৭ ইঞ্চি দৈঘ্যের এই ষাঁড়টি ৩ বছর ধরে লালন-পালন করা হচ্ছে। এছাড়াও এবার আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে শখের বসে অনেক পশু’র নাম দেওয়া হয়েছে টাইগার, হিরু ও মেসি, রাজা-বাবু। ‘বস’র মালিক সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল জানান, তিনি ষাঁড়ের লালন-পালনের বেশ যত্নবান ছিলেন। তিনি ৩ বেলা একে সঠিক নিয়মে ঘাস, ভুমি, খড়সহ নানা ধরনের ফলফলাদি যেমন আপেল,কলা ও মালটা খেতে দিয়েছেন। এতে প্রতিদিন এর খাবার বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা মত। এতে এটি গায়গতরে বেশ সুঠাম-সাঠাম হয়ে উঠেছে। এটি দেখতে তার বাড়ির আশপাশের এলাকার লোকজন প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন। রেজাউলের স্ত্রী বলেন, আমরা দুইটি ষাঁড় লালন-পালন করেছি। এর মধ্যে বড়টির নাম শখ করে রাখা হয়েছে ‘বস’। তিনি বলেন, এর হাবভাব দেখতে অনেকটাই বসের মত। আমি নিজের সন্তানের মতই ষাঁড় দুটি লালন-পালন করেছি ৩ বছর ধরে। বিক্রি’র কথা মনে হতেই অনেক কষ্ট লাগছে। তার পরও বিক্রি করতে হবেই। স্থানীয় যুবক কামাল হোসেন বলেন, এর আগে এতো বড় আকারের পশু আমি দেখিনি। এটি দেখতে বেশ ভালো লেগেছে। আমার মত অনেকে প্রতিদিন রেজাউলের বাড়িতে আসছেন এটিকে দেখতে। তবে ‘বস’ নাম খ্যাত ষাঁড়টি উপযুক্ত দাম পেয়ে খামারি বিক্রি করতে পারবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। এদিকে স্থানীয় মাহমুদপুর ইউনিয়নের জোকারদিয়া নয়াপাড়া এলাকার বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে লালন-পালন করা হচ্ছে সিন্দী জাতের ষাঁড়। এদের নাম রাখা হয়েছে রাজা ও বাবু । তার দাবী এর মধ্যে রাজা’র ওজন হবে প্রায় ১৫ মণ আর বাবু’র ওজন হবে ১২ মণ। রাজা’র দাম তিনি হাকাচ্ছেন ১৮ লাখ টাকা। আর বাবু’র দাম হাকাচ্ছেন ১৩ লাখ টাকা। তিনি স্বাভাবিক খাবার দিয়ে ষাঁড় দুটি ২ বছর ধরে অতিযত্নে লালন-পালন করছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার আড়াইহাজার পৌরসভার অস্থায়ী পশু’র হাটে ষাঁড় দুটি উঠাবেন। স্থানীয় হাউজাদী ইউনিয়নের নারান্দী এলাকার হোসেন মিয়ার বাড়িতে লালন-পালন করা হচ্ছে শাহিওয়াল জাতের ৩টি ষাঁড়। এর মধ্যে বড়টির নাম তিনি রেখেছেন হিরু, মেঝোটির নাম টাইগা ও ছোট্রটির নাম দিয়েছেন শখের বসে মেসি। তিনিও স্বাভাবিক খাবার দিয়ে এক বছর ধরে এগুলোকে লালন-পালন করছিলেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য খামারে এবছ কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবছর ১৭টি অস্থায়ী পশু’র হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হাটগুলো বেশ জমে উঠেছে। প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও হাট বসছে। এতে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটছে। হাট কমিটির পক্ষ থেকে পশু’র তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ গ্রহণ করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডাক্তার সজল কুমার দাস বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবছর প্রায় ৭ হাজারের মত বিভিন্ন কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এসব পশু’র স্বাস্থ্যগত চিকিৎসায় নানা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক খাবারেই পশুগুলো বেড়ে উঠছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা বরাবরের মত এবছরও লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এন.হুসেইন রনী /জেসি


