নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের (করোনা হাসপাতাল) ২ টি আইসিইউ বেড নষ্ট ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সম্প্রতি ঠিক হয়েছে সেই দুটি বেডও। তবে তা রোগী পূর্ন হয়েছে দ্রুতই। করোনার সংক্রমন বাড়তেই বেড়েছে আইসিইউ বেডের চাহিদা। কিন্তু একাধিক বেড রেখেও কোনভাবেই যেন সামাল দেয়া যাচ্ছেনা।
নারায়ণগঞ্জে করোনার শুরু থেকেই খানপুর ৩০০ শয্য জেনারেল হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে রূপ দেয়া হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রোগীর চাপ। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ পায় করোনা টেস্টিং ল্যাব এবং ১০টি আইসিইউ বেড। তবে বছর না ঘুরতেই ২টি আইসিইউ বেডে ত্রুটি দেখা দেয়। এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুতই তা মেরামত করে পুনরায় চিকিৎসা সেবায় ফিরিয়ে আনা হয়।
শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক যুগের চিন্তার সাথে কথা হয় ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল বাশারের সাথে। তিনি এসময় হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা সহ করোনা মোকাবেলার বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন।
আবুল বাশার বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ৮৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১০ জন রোগী। অর্থ্যাৎ আমাদের সবকয়টি আইসিইউ বেড বর্তমানে ফিলাপ রয়েছে। মাঝে ২টি বেডে সমস্যা দেখা দিলেও সেসব আমরা মেরামত করে নিয়েছি। এখন আইসিইউতে কোন সমস্যা নেই। তবে রোগীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় আমাদের ১১ জন নার্স, ১ জন ডাক্তার ও ৩ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেনশে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা করোনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলার ২টি পরীক্ষাগারে ২২২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্য থেকে নতুন ৭৩ জন সহ জেলায় মোট শনাক্ত হলেন ১১ হাজার ৯৩৪ জন। একই সাথে নতুন সুস্থ হয়েছেন ১১৭ জন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় জেলা জুড়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯৯ জন। এর আগে বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিলো।


