মৃত্যু বাড়লেও লকডাউনে তোয়াক্কা নেই নগরবাসীর
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম
গত বছর যখন প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে, তখন এতে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি এর প্রভাব নারায়ণগঞ্জে এতটাই বেশি ছিলো যে, পুরো জেলাকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু এরপর নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকমাস প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃত্যু এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে গেলেও, এ বছর আবারো নতুন রূপে শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে ভয়াবহ এই ভাইরাসটি। তাই এখন প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং মৃতের সংখ্যা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ১৮৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২০২ জনের।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন এই ভাইরাস আগের ভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালি। সেই সঙ্গে এটি রোগীর হার্টকে দশগুণ বেশি সংক্রমীত করতে পারে। তাই ইতিমধ্যেই করোনা প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউনসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হলেও নারায়ণগঞ্জ শহরে এসবের তোয়াক্কাও করছেনা কেউ।
সড়েজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোর সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাড়তে থাকে সাধারণ যানবাহনের চলাচল। আর যানবাহন চলাচলের এই বিষটি সকাল পেরিয়ে দুপুরের দিকে যানজটে রুপ নেয়। এ সময় চালক অথবা সাধারণ যাত্রীদের অধিকাংশকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়না। এদিকে শহরের বাজারগুলোর চিত্র দেখা যায় আরো ভয়াবহ। সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই, অসংখ্য ক্রেতাদের প্রতিদিন বাজার করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় লকডাউন আর স্বাস্থ্যবিধি, না মানার প্রবণতা আরো বেশি।
শহরতলীর এলাকাগুলোতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ যার যার ইচ্ছেমতো বাড়ি থেকে বের হচ্ছে। চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে আড্ডা দিচ্ছে। এছাড়া সেখানে সরকারের অদেশ অমান্য করেই অধিকাংশ মসজিদগুলোতেই ২০ জনের অধিক মুসল্লি নিয়ে পড়ানো হচ্ছে তারাবি এবং জামাতের নামাজ। তাই এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে। তবে উপরে উল্লেখীত বিষয়গুলোর জন্যে নারায়ণগঞ্জে করোনার সংক্রমন বাড়তে থাকলেও এর জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ড.ইমতিয়াজ আহম্মেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জের একটি শ্রেনির মানুষ ভাবছেন করোনা গরীবদের আক্রান্ত করে। কিন্তু তাদের এই ধরনের চিন্তাধারার ফলে তারাসহ তাদের পরিবারের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের জেলায় করোনার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আইসিউতে একটি বেডও খালি নেই। প্রায় প্রতিদিন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। তাই সবার কাছে অনুরোধ আপনারা দয়াকরে মাস্ক পরিধান করুন।’
আর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করছি। এছাড়া বাজারে এবং অন্যান্য জায়গায় ভ্রাম্যমান আদালতও পরিচালনা করছি। মূলত চাইছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের জন্য যেই উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে সেটা সকলের মাঝে পৌছে দিতে। কিন্তু তবুও অনেকে এটাকে অমান্য করছে। তাই সকলের মঙ্গলের জন্য বলতে চাই আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করুন।
অন্যদিকে গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা যায় নতুন করে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪৪ জন, সদরে ১৯ জন, বন্দরে ৫ জন, আড়াইহাজারে ৪ জন, সোনারগাঁয়ে ১৫ ও রূপগঞ্জে ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে এ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই মারা গেছেন ১০২ জন ও আক্রান্ত ৪ হাজার ৭২৬ জন। অন্যদিকে সদর উপজেলায় মারা গেছেন ৩৮ জন ও আক্রান্ত ২ হাজার ৫২২ জন। বন্দর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭২৯ ও মারা গেছেন ৮ জন। এছাড়া আড়াইহাজারে আক্রান্ত ৮৪৯ ও মারা গেছেন ৮ জন, সোনারগাঁয়ে আক্রান্ত ১ হাজার ১৩১ জন ও মারা গেছেন ৩৬ জন এবং রূপগঞ্জে মারা গেছেন ১৪ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২২৮ জন।


