নারায়ণগঞ্জ শহরে সাধারণ মানুষের সরকারি চিকিৎসা সেবার একমাত্র হাসপাতাল এখন ভিক্টোরিয়া। এক বছরেরও বেশী সময় ধরে খানপুর ৩০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে কোভিড রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকায় অন্য সকল রোগীর ঠিকানা এখন ভিক্টোরিয়ায়। করোনা পরিস্থিতির ভেতরে যারা ঢাকা কিংবা অন্যত্র যেতে পারছেন না তারা শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালেই ছুটে আসেন চিকিৎসা সেবার জন্য। এর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও খোলা রয়েছে, তবে সেখানে সেবা নিতে যাওয়া মানুষের চাইতে ভিক্টোরিয়াতেই রোগীদের আনাগোনা বেশী।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় সবধরনের গণপরিবহন চলাচল। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের কারনে অন্যান্য রোগীদেরও ভোগান্তি বাড়ে বহুগুণে। যেসকল রোগীরা ঢাকা কিংবা দূরে কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তারা জরুরী প্রয়োজনে ছুটে আসেন হাসপাতালে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চাপ বাড়ার কথা ছিল।
তবে সরজমিনে গিয়ে হাসপাতালে দেখা যায়নি রোগীদের চাপ। অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক ভাবে চলছে রোগীদের সেবা প্রদানের কার্যক্রম। হাসপাতালের নার্সদের মাঝে নেই তেমন ব্যস্ততা। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তারের সিরিয়ালেও ৩/৪ জনের বেশী দাঁড়াতে হচ্ছে না। জরুরী ইঞ্জেকশন ও স্যালাইন দেয়ার জন্যেও পর্যাপ্ত কর্মী রয়েছে হাসপাতালে। ফলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই সেবা প্রদান ও গ্রহন চলে হাসপাতালে।
হাসপাতালের বাইরেও দেখা মেলে রোগীবাহী ৩টি অ্যাম্বুল্যান্স বসে আছে। এর চালকরাও কাটাচ্ছেন অলস সময়। বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের কেউ কেউ করোনা রোগী আনা নেয়ার চাইতে অন্যান্য রোগীদের আনা নেয়াতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে খানপুর হাসপাতালে না গিয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন জরুরী রোগী পরিবহনের জন্য।
হাসপাতালে ডিউটিরত ডাক্তার জানান, করোনার কারনে খানপুর হাসপাতালে যেসকল রোগী যেত তারা এখন ভিক্টোরিয়ায় আসছেন। প্রায় ১ বছর ধরে এটি চলমান থাকায় খুব বেশী রোগীর চাপ আমরা পাচ্ছি না। মাঝে একটু রোগী বেড়ে গেলেও বর্তমানে লকডাউন জুড়ে এভারেজ রোগী আমরা পাচ্ছি নিয়মিত। আমরা যারা ডাক্তার আছি তারাও শিফট অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। খুব বেশী রোগীর চাপ আছে তা বলবো না। অন্যান্য সময়ের মতই স্বাভাবিক রোগীদের আসা যাওয়া রয়েছে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ বা চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও আসাদুজ্জামান বলেন, চলমান লকডাউনে আমাদের হাসপাতালে খুব বেশী রোগী বাড়েনি। গতবার লকডাউনে যেভাবে শিফট করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছিলো এবার তেমন কোন নির্দেশনা নেই। জরুরী বিভাগে ৪ জন ডাক্তার নিয়োমিত চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন। করোনার সেকেন্ড ওয়েভে আমরা জ্বর, ঠান্ডা কাশির রোগীই বেশী পাচ্ছি। গতবছর আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলো। তবে আমাদের ডাক্তাররা এখন পর্যন্ত নিরাপদ আছে।


