ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসা অসুস্থ রোগীরা কেউই প্রবেশ করতে চাইছেন না জরুরী অবজারভেশন ওয়ার্ডে। হাসপাতালে আগত ৩ জন রোগীর অবস্থা প্রায় শয্যাশায়ী। তবুও তারা রয়েছেন অবজারভেশন ওয়ার্ডের বাইরে। দুজন জরুরী বিভাগের প্রবেশ পথে বসিয়ে রাখা সিটে শুয়ে আছেন। আরেকজন হাসপাতালের করিডোরে স্ট্রেচারে শুয়ে স্যালাইন নিচ্ছেন। রোগীর সাথে আগত স্বজনরাও দাঁড়িয়ে বা বসে থেকে রোগীর সেবা করে যাচ্ছেন।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিত্র এটি। তবে অবজারভেশন ওয়ার্ড রোগীদের এড়িয়ে চলা নতুন কিছু নয়। গত কয়েকদিন ধরেই এই ওয়ার্ডে রোগী বা রোগীদের স্বজনরা কোনমতেই প্রবেশ করতে চাইছেন না। কারন ভেতরে প্রচুর দুর্গন্ধ! হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মত গুরুত্বপূর্ন স্থানে এমন দুর্গন্ধ স্বাভাবিকভাবেই আগত সেবা গ্রহীতাদের জন্য ভোগান্তির কারন।
অবজারভেশন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে এর সত্যতা মেলে। বিকট দুর্গন্ধে একমিনিটের জন্যেও অবস্থান করা দায়। হাসপাতালে কর্মরত আয়াদের কাছে জিজ্ঞাসা করতেই উঠে আসে মানবিক এক চিকিৎসার কথা। যার সুস্থতায় হাসপাতালের সকলে মিলে বিকট দুর্গন্ধ সহ্য করে সেবা দিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। একই সাথে আগত অন্যান্য রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগও নীরবে মাথা পেতে নিচ্ছেন।
জরুরী বিভাগে কর্মরত এক আয়া জানান, সম্প্রতি কিছুদিন পূর্বে রাস্তা থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পচে যাওয়া অসুস্থ নারীকে নিয়ে আসা হয়েছে। এই নারীর পায়ের উপর উঠেছে ট্রাকের চাকা। জীবন ছিল সংকটাপন্ন। সেই অবস্থায় ঢাকায় রেফার না করে এখানেই সর্বাত্মক সেবা করেছেন ডাক্তাররা। কিছুটা সুস্থ হবার পর জরুরী বিভাগের অবজারভেশন ওয়ার্ডেই হয়েছে তার অস্থায়ী ঠিকানা। মানসিক ভারসাম্য না থাকার কারনে মলমূত্র এবং তার শরীরের দুর্গন্ধে পুরো ওয়ার্ডই এক প্রকার খালি করে দিতে বাধ্য হয়েছে সকলে।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের টিকেট ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত স্টাফ বলেন, এই নারীকে আমরা কয়েকদিন ধরে সবাই মিলে সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু তাকে খাবার দিলে সে খায়না। নাম জিজ্ঞাস করলেও কিছু বলে না। বাড়ি কোথায় কিছুই জানাতে পারে না। গায়ে কাপড় চোপড়ও রাখতে চায় না। দুর্গন্ধের কারনে সকলেই দূরে দূরে থাকে। তারপরেও ডাক্তার নার্স সবাই মিলে তাকে সুস্থ করে রাখার চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রায় ৬/৭ দিন পূর্বে এক লোক এই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তারপরেই আমরা তার চিকিৎসা শুরু করি। মহিলার বয়স প্রায় ৫০ এর উপরে হবে। তার শরীর ও মলমূত্রের কারনে জরুরী বিভাগের অবজারভেশন ওয়ার্ড দুর্গন্ধ হয়ে আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীকালেই তাকে একটি কেবিনে শিফট করা হবে। সেখানেই আমরা তার নিয়মিত সেবা অব্যহত রাখবো।
তবে অজ্ঞাত পরিচয় এসকল রোগীদের কিভাবে সেবা দেয়া হয় তা জানতে চাইলে বলেন, কয়েক বছর পুর্বেও আমাদের কাছে এমন একজন ব্যক্তি এসেছিলো। তাকে আমরা প্রায় ৭/৮ মাস আমাদের কাছে রেখেছি। পরে মুন্সিগঞ্জ থেকে খোঁজ পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে গেছে। এই সেবাগুলো আমরা নিজেরাই সকলে মিলে করে থাকি। পুরো বিষয়টি আমাদের কাছে মানবিক সেবারই একটি অংশ।


