নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা আশানুরূপ ভাবে না কমলেও গুরুত্বর অসুস্থ রোগীর পরিমান কমছে। লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে রোগী বাড়লে দ্বিতীয় সপ্তাহে কমতে শুরু করেছে রোগী। ইতোমধ্যে আইসিইউ বেডও খালি হয়েছে রোগীদের জন্য।
বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দৈনিক যুগের চিন্তাকে দেয়া এক বক্তব্যে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের (কোভিড হাসপাতাল) তত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার এই তথ্য জানান।
সরজমিনে খানপুর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে করোনা রোগীদের চাপ নেই বললেই চলে। প্রায় ১ ঘন্টায় দেখা মিলেনি একজন রোগীরও আগমন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছেন হাসপাতালে কোন রোগীকেই আমরা ফিরিয়ে দিচ্ছিনা। পর্যাপ্ত বেড থাকায় যেসকল রোগীদের বেড প্রয়োজন তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করছি।
হাসপাতালে কর্তব্যরত এক স্টাফ নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, গত কয়েকদিন ধরে রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। আগে যেখানে ঘন্টায় কয়েকজন রোগী আসতো এখন সেখানে ২/৩ ঘন্টা পর দুই একজন রোগী আসছে। আমাদের অনেকগুলো বেড খালি আছে। আর যারা আক্রান্ত তাদের অবস্থাও মোটামুটি ভালো বলছেন সবাই।
হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে অপেক্ষমান চালক সোহাগ জানান, করোনা রোগীদের চাপ কিছুটা কমে এসেছে মনে হচ্ছে। আগে এখানে আইসিইউ না পাওয়ায় তাদের নিয়ে ঢাকা ছোটাছুটি করতে হয়েছে বেশ কয়েকদিন। এখন তেমন কোন রোগী আসছে না। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী অ্যাম্বুলেন্সের যাওয়া-আসাও কমে গেছে। লকডাউনের কারনে সংক্রমন কমে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে। অনেকেই এই হাসপাতাল বাদ দিয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন রোগীদের জন্য।
করোনা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল বাশার বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ৭৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর ভেতর ৮ জন রয়েছেন আইসিইউ তে। সব মিলিয়ে ২টি আইসিইউ বেড সহ ৩৪টি বেড এখনও খালি রয়েছে। আমাদের নতুন করে ৬০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা অত্যান্ত ভালো।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় ৬৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য। নতুন ১০৮ জনসহ এপর্যন্ত ১২ হাজার ৪শত ৭০ রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ১০ হাজার ৪শত ৭৭জন। নতুন ২ জন সহ প্রাণ হারিয়েছেন ২০৫ জন


