Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

নারায়ণগঞ্জে বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১, ০৬:৪১ পিএম

নারায়ণগঞ্জে বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি
Swapno

শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা নারায়ণগঞ্জ। দেশের এক্সপোর্ট জোন থেকে যেই পরিমান রাজস্ব আদায় করছে সরকার, তার ২৫ শতাংশ আসছে কেবল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকেই। কেবল পোষাক শিল্পই নয়, এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানও। নানাবিধ শিল্প প্রতিষ্ঠানে সয়লাব এই নারায়ণগঞ্জে অন্তত ৪০ লাখ লোকের বসবাস।

 

বিপুল সংখ্যক এই মানুষের বসবাসের ফলে নারায়ণগঞ্জে ঘনবসতিও অন্যান্য জেলার তুলনায় ঢের বেশি। ফলে প্রতিনিতই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মিলফ্যাক্টরী বা বসতবাড়িতে ঘটে চলেছে ছোট বড় অগ্নি দূর্ঘটনা। আগুনে পোড়া মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। গতকালও রূপগঞ্জের একটি বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তল্লায় মসজিদ বিস্ফোরণ বা তারও আগে গ্যাসের লিকেজে একই পরিবারের সকল সদস্য আগুনের ক্ষত নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার স্মৃতি মুছে যায়নি আজও।

 

তবে, লাশের সারি দীর্ঘ হলেও অগ্নিদূর্ঘটনা প্রবণ এই নারায়ণগঞ্জে নেই কোন বার্ন ইউনিট। শহরের দুটি হাসপাতালেও নেই অগ্নিদগ্ধদের জন্য আলাদা কোন বেড। এর ফলে নারায়ণগঞ্জের যেই প্রান্তেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটুক না কেন, দগ্ধ রোগিদের নেয়া হয় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে। এক্ষেত্রে দগ্ধ রোগিদের ঢাকার বার্ন ইউনিটে নেয়ার সময় সড়ক পথে প্রায়-ই যানজটে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। এতে করে রাস্তায় অনেক রোগির অবস্থা হয়ে উঠে আরো ঝুঁকিপূর্ন এমনকি হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুর খবরও নেহাত কম নয়। এই অবস্থায় অগ্নিদূর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চল শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বার্ন ইউনিট স্থাপন বা হাসপাতাল গুলোতে দগ্ধ রোগিদের জন্য আলাদা ইউনিট করার জোড়ালো দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই জেলায় প্রায় সময়ই দূর্ঘটনা ঘটছে। তাই নারায়ণগঞ্জে অবশ্যই বার্ন ইউনিট করা উচিৎ। আর নারায়ণগঞ্জের যেসব শিল্প কারখানায় দূর্ঘটনা ঘটছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, তারা কলকারখানা অধিদপ্তরের আইন মানছে না। এই বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিৎ। রূপগঞ্জের মর্মান্তিক এই ঘটনায় আমি গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করছি।’ বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতা ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, ‘প্রতিটি জেলাতেই একটি করে বার্ন ইউনিট থাকা প্রয়োজন। আর নারায়ণগঞ্জ যেহেতু শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকা, সেহেতু এখানে প্রায় সময়ই অগ্নিদূর্ঘটনা ঘটছে।

 

তাই নারায়ণগঞ্জে বার্ন ইউনিট স্থাপন করাটা আরো বেশি জরুরি।’ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘আগে থেকেই আমরা বার্ন ইউনিট দাবি করছিলাম। কিন্তু এটা হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ যেহেতু শিল্পাঞ্চল এবং লক্ষ লক্ষ লোক কাজ করে, সেহেতু এখানে প্রায় সময়ই অগ্নিদূর্ঘটনা ঘটছে। এখানে যদি আলাদা বার্ন হসপিটাল, বা হসপিটালের সাথে আলাদা করে ইউনিট স্থাপন করা যেত, তাহলে দগ্ধ মানুষগুলো দ্রæতই চিকিৎসা সেবা পেত। কিন্তু সারা দেশেই চিকিৎসা সেবার ভঙ্গুর চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি।

 

৬৪টি জেলায় ৬৪টি পূর্নাঙ্গ হাসপাতাল হয়নি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও। এগুলো দুঃখজনক। আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উচিৎ আমাদের চাহিদা বুঝা।’ সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জে যেভাবে মিল ফ্যাক্টরী গড়ে উঠেছে এবং অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে, এই জন্য নারায়ণগঞ্জে বার্ন ইউনিট থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো নারায়ণগঞ্জে যেই কয়টি হসপিটালই আছে, কোথাও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নেই। তারপরও নারায়ণগঞ্জ যেহেতু অগ্নিঝুকিপূর্ন এলাকা সেহেতু আমরা এখানে একটি বার্ন হসপিটাল কিংবা বর্তমান হসপিটালে আলাদা বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি জানাই।’

 

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৪০ লাখ লোক বসবাস করে। যাদের অনেকেই মিল ফ্যাক্টরীর সাথে যুক্ত। এখানে ঘণবসিতও অনেক বেশি। এখানে প্রায় সময়ই অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা হওয়ায় এখানে সরকারের উচিৎ বার্ন হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিট স্থাপন করা। আমরা জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিভাগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে আবেদন করছি, নারায়ণগঞ্জে যেন বার্ন হাসপাতাল বা ইউনিট করা হয়। তাহলে দগ্ধ রোগিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন এবং কিছুটা হলেও সারভাইভ করতে পারবে। রূপগঞ্জে ফ্যাক্টরিতে অগ্নি দুর্ঘটনায় আমি গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করছি।’

 

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘দগ্ধ রোগিদের ৪ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে যেতে ৪ ঘন্টা সময় লাগে না। এছাড়া জেলা পর্যায়ে বার্ন ইউনিট করা সম্ভব না। নারায়ণগঞ্জের জন্যতো আলাদা বার্ন ইউনিট করবে না। তবে, নারায়ণগঞ্জে ৫০০ বেডের হাসপাতাল হলে ১০টি বেড এমনিতেই বার্ন ইউনিটের জন্য থাকবে। এছাড়া অন্যান্য হাসপাতালেও ১০টি বেড বার্নের জন্য রাখা যেতে পারে।’

 

তবে, আশ্বস্ত করলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ বার্ন হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটের যেই দাবি করছেন, আমি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে এই দাবির প্রতি সহমত পোষন করছি। মানুষের এই ধারনা সঠিক, যেহেতু নারায়ণগঞ্জ একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। প্রতিবছরই এখানে দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। এজন্য আমাদের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট যেই হাসপাতাল হচ্ছে সেখানে অবশ্যই একটি শয়ংসম্পূর্ন বার্ন ইউনিট করা যেতে পারে। সাধারণ মানুষ যদি আমার কাছে লিখিত আবেদন, স্মারকলীপি বা এমন পন্থায় কোন আবেদন করে, তাহলে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ সেই আবেদন তুলে ধরবো। আমি বার্ন ইউনিট স্থাপনের পক্ষে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন