নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দারা সহ আশপাশের বাসিন্দা কোভিড ১৯ টিকা নিতে ছুটে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেরারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে। কয়েক সাঁড়ির দীর্ঘ লাইনে নেই কোন স্বাস্থ্য বিধি। একে অপরে নিশ্বাসে মিশ্রিয় হয়ে যাচ্ছেন সহজে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামাল দিতে প্রায় ব্যর্থ হওয়ার পথে। জেলা প্রশাসনের তৎপরতাও নেই সেখানে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় হাসপাতালেই সব ঝুঁকি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মরণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রামন নারায়ণগঞ্জে বেড়েই চলেছে। এ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৬৬ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪৯৬ জন। গত বছরের ৮ মার্চ ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায় সারা দেশের মধ্যে এই নারায়ণগঞ্জেই। প্রথম মৃত্যুর খবর আসে বন্দর থেকে। তারপর কয়েক দফায় কছোর লকডাউন দেয়া সংক্রমন রোধে। তবে টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতাল গুলোতে কমেছে স্বাস্থ্য বিধি।
গতকাল সরেজমিনে ভিক্টোরিয়া হাসপাতলে দেখা গেছে, মূল ফচনের ভেতরে অসংখ্য মানুষের ভীর। জরুরী বিভাগের কাছেই লম্বা সিরিয়াল। ছরিয়েছে ডাইরিয়া ওয়ার্ড পর্যন্ত। এমনকি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের কক্ষও খালি নেই। হাসপাতালের বাইরে পুরুষদের সাঁড়ি দেখা গেলে নারীরা ছিলেন ভেতরে তবে তাদের লম্বা লাইন দীর্ঘ সাড়িতে পরিনত হয়েছে। নারীরা একে অপরে গা ঘেঁষে দারিয়ে অপেক্ষা করছেন চিকা নেয়ার জন্য। বাদ যায়নি পুরুষদের ক্ষেত্রেও।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন টিকা নিয়ে আসা ব্যক্তিরা জানান, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে টিকা নিতে হাসপাতালে এসেছি কিন্তু এখানে তো স্বাস্থ্য বিধি নেই। টিকা দেয়ার প্রতিটি কাউন্টারে অসংখ্য মানুষের ভীড় প্রায় প্রতিদিন। যারা স্বাস্থ্য সেবার কথা বলছেন তারাই তো স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারছেন না। হাসপাতাল কর্তপক্ষের উচিত তাদের টিকা দিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জানান, যদি মেসেজ যায় ১৫০০ মানুষের তাহলে আসে ৩ হাজার। আমরা নিজেরাই বিরক্ত। প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে কয়েকবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাইদুজ্জামান হিমু জানান, আমরা জেলা প্রশাসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেদের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা সব আগে প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের। কারন সমস্য নিয়ে মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালেই সব ঝুঁকি তাই সেখান থেকে যদি করোনার সংক্রম বাড়ে তাহলে লকপাউন দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সংক্রমন রোধ করা সম্ভব নয়।


