Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

খানপুর করোনা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগী

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২১ পিএম

খানপুর করোনা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রোগী
Swapno

জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতাল চত্বরে এদের বিচরণ, বেশীরভাগই মহিলা দালাল

 

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ঘোষণার পর বন্ধ হয়ে যায় সাধারণ রোগের চিকিৎসা। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এখনও রোগী আসে এই কোভিড হাসপাতালে। আর এতে করে দালালদের পোয়া বারো। পনের থেকে বিশ জনের এই দালাল চক্র প্রতিদিন কোভিড হাসপাতালের মেইন গেটে ও হাসপাতালের ভিতরে ওৎ পেতে রোগীদের সর্বশান্ত করছে। 

 

প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্যে এখন এই কোভিড হাসপাতাল। অন্যদিকে করোনা টেস্টসহ টিকা নিতে মানুষের কাছ থেকে ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই দালালদের বিরুদ্ধে। অভিনব কায়দায় তারা সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে ব্যক্তি মালিকাধীন ক্লিনিকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নীরিক্ষায় সবই দালালদের হস্তক্ষেপ রয়েছে। 

 

সরজমিনে দেখা গেছে, সকাল নয়টা হাসপাতালের মেইন গেটে ও ভিতরে দাঁড়িয়ে কয়েক জন। এরমধ্যে মহিলাও আছেন। অটোরিক্সা হাসপাতালের গেট দিয়ে ভিতর ঢুকলেই দাঁড়িয়ে থাকা এই মহিরা পুরুষ অটোরিক্সা ঘিরে ধরেন। প্রথমেই তারা জানতে চান কেন হাসপাতালে এসেছেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন এখানে সাধারণ রোগের চিকিৎসা হয় না। ভালো ডাক্তার আছে আমার সাথে চলেন। পরক্ষণেই জানা গেল এরা সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। এরা হলো রাজিয়া, লতা, মনিরা, নাসিমা, তাসলিমা, বাদল, চিনু, ইবু, রাসেল, আফজল, সুমি, বিউটি, রবিন এরাই মুলত বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল। এসব এখন এই কোভিড হাসপাতলে ওপেন সিক্রেট।

 

ওপেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই দালাল চক্র কোভিড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এসব দালাল টিকা নিতে আসা রোগীকে লাইন ছাড়া দ্রুত টিকা নিয়ে দিবে বলে জন প্রতি দুইশত থেকে তিনশত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে করোনা টেস্ট করতে পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকাও নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এসব দালালদের বিরুদ্ধে। 

 

প্রতিদিন হ্যান্ড মাইক দিয়ে ঘোষনা দেয়া হয় দালাল দ্ধারা প্রতারিত হবেন না। আপনার আশেপাশেই দালাল ঘুরছে। পকেট মার থেকে সাবধান। নগদ টাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্র নিজ দ্বায়িত্বে রাখুন। ভূক্তভোগীদের দাবী মাইকে ঘোষণা দিলেই দালালরা হাসপাতাল ছেড়ে যাবে না। হাসপাতাল থেকে দালাল তারাতে হলে প্রশাসনের হস্ত ক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিদিন দুইবার পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই দালাল চক্রের  দৌড়াত্ম্যের কারণে সরকারি এই হাসপাতালের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে রোগীরা। 

 

জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতাল চত্বরে এরা বিচরণ করে থাকে। রোগী এলেই তাঁরা এগিয়ে আসে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলা দালাল রয়েছে। তাঁদের ভাষ্যমতে হাসপাতালে ডাক্তার নেই। এখানে কোভিড রোগী ছাড়া সাধারন রোগের চিকিৎসা হয় না। বাহিরে বিশ টাকার ডাক্তার আছে আপনার সমস্যাসা শোনে ভাল ট্রিটমেন্ট দিবে। আমার সাথে চলুন। 

 

এই ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য) আবুল বাসার জানান, দালালদের ব্যাপারে রোগীদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। এজন্য প্রতিদিন হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে দালাল থেকে সাবধান থাকুন। দালাল দ্বারা প্রতারিত হবেন না। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনকে এ ব্যপারে মনিটরিংয়ের জন্য বলা হয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মোবাইল কোর্টেরও ব্যবস্থার কথাও জানান এই চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক। অপর দিকে এই হাসপাতালের চিকিৎসকদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দালাল প্রতিরোধের জন্য। এবং প্রতিদিন এই ব্যাপারে বিফ্রিং দেওয়া হচ্ছে। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন