খেয়া পারাপারে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৩৬ পিএম
বাড়ির বাইরে সকলকে অবশ্যই বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে বলা হলেও শহর ও বন্দর খেয়া পারাপারে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই।
# দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে : সিভিল সার্জন
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণের সংক্রমণ রোধে তৃতীয় ধাপে সরকার বিধিনিষেধ জারি করলেও ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এর নদী পারাপারে ট্রলার চালকসহ যাত্রীরা মানছেনা কোন নির্দেশনা। বাড়ির বাইরে সকলকে অবশ্যই বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে বলা হলেও খেয়া পারাপারে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই।
করোনার তৃতীয় ধাপে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলমান বিধিনিষেধ আগামী ২১ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। চলমান এ বিধিনিষেধের মধ্যেও শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়া ট্রলার মাঝি ও যাত্রীরা মানছেননা কোন স্বাস্থ্যবিধি।
যন্ত্রচালিত এ খেয়া ট্রলারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব না মেনে খেয়া পারাপার করছে হাজার হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রলারে গাদাগাদি করে উঠানো হচ্ছে এ সকল যাত্রীদের। যদিও সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী বাসার বাইরে সব জায়গায় সকলকে অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে বলা হলেও অধিকাংশ লোকজনকে মুখে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি কোনো মাস্ক। কেউ কেউ মাস্ক পড়লেও রেখেছেন থুতনির নিচে।
গতকাল সরেজমিনে খেয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, খেয়া পারাপাররত বেশিরভাগ যাত্রী ও চালকের মুখে নেই কোন মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেয়া চলাচলের কথা থাকলেও প্রতিটি ট্রলারে ইচ্ছেমতো যাত্রী বোঝাই করে নদী পারাপার করছে ইজারাদাররা। যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা জীবাণুনাশক স্প্রেও ব্যবহার করছে না তারা।
প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ টু বন্দর লক্ষাধিক যাত্রী এ নদী পারাপার করে থাকেন। এসব যাত্রীদের কাছ থেকে ইজারাদাররা জনপ্রতি ২ টাকা করে ভাড়া নেন। খেয়া ট্রলারে ১৫ জনের স্থলে ৪০ জনের অধিক যাত্রী পারাপার করছে ইজারাদাররা। চালকদের পাশাপাশি এ খেয়ার যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাসহ মুখে মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে যাত্রী ও চালকদের মাঝে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশংকাও দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বন্দর আমিনের বাসিন্দা আলিফ জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খেয়াঘাটে ইজারাদাররা নিজেদের ইচ্ছে খুশিমতো খেয়া পারাপারের জন্য ট্রলারে যাত্রী উঠাচ্ছেন। ঘাট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটু সচেতন হলে যাত্রীরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বরত সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মশিউর রহমান বলেন, আসলে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমাদের সকলকে তৎপর থাকতে হবে। আমরা যে সার্ভিসগুলো দিয়ে থাকি সেখানে ইনশিউর করি যে নো মাস্ক, নো সার্ভিস। যেমন ভ্যাক্সিন নিতে হলে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে, হাসপাতালে সার্ভিস নিতে হলে তাকে মাস্ক পড়তে হবে। এই যে বিষয়টা সেটা আমরা করোনা প্রতিরোধে সকলকে নিয়ে আলোচনা করেছি এর মধ্যে প্রশাসন কিন্তু কিছু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। এ বিষয়টি আসলে মূলত প্রশাসনকেই দেখতে হবে যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না। আমি আগামীকাল বিষয়টি প্রশাসনের নলেজে আনবো যাতে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের ইজারাদার শাহাদাৎ হোসেন ভূইঁয়া সাজনুর সাথে কথা বললে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন, পরে কথা বলবেন বলে জানান।


