Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

বহাল তবিয়তে রিজিয়া-মেডিস্টার হসপিটাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২২, ০৪:১৪ পিএম

বহাল তবিয়তে রিজিয়া-মেডিস্টার হসপিটাল
Swapno

# বন্ধের নির্দেশ থাকলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঢিলেমি

 

সারা দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়। এখানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধ এবং ৫৫টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বৈধ রয়েছে। আর বাকি সব গুলোই অবৈধ তালিকায় রয়েছে।

 

তালিকার বাহিরেও অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব, শহরের বঙ্গবন্ধু রোড ডিআইটি এলাকার রিজিয়া হাসপাতাল, দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ডায়াবেটিক হাসপাতাল অবৈধ তালিকায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে তারা দেদারচে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিক গুলো যেন কসাই খানা খুলে বসেছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করাতে গেলে অতিরিক্ত টাকা নেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি না করে তাদের সিজার করার পরামর্শ দেয়া হয়। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকের ভূল চিকিৎসার কারনে রোগী পর্যন্ত মারা যান।

 


খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব অবৈধ তালিকা থাকলেও খোলা রেখে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ১০ জন ডাক্তার উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করে বলে জানা কর্তৃপক্ষ। এখানে ২০ জন রোগি ভর্তি করার ব্যবস্থা আছে। তাদের ডিজি হেলথ ছাড়পত্র কাগজ নেই। সেই সাথে ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন কাগজ আবেদন করলেও এখনো তা পান নাই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজও নেই। তার পরেও তারা দিব্বি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 


অপরদিকে শহরের ডিআইটি রিজিয়া হাসপাতালও অবৈধ তালিকায় রয়েছে। এই হাসপাতালটি জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী পরিচালনা করেন। কয়েকজন ব্যক্তি জানান, তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় প্রভাব দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ডা. নিজাম আলী দাবী করেন, তারা ২২ বছর যাবৎ চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সকল ধরণের কাগজপত্র রয়েছে। তবে কোন কাগজ তারা দেখাতে পারেন নাই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

 

 

একইভাবে দেওভোগ নাগবাড়ি ডায়াবেটিক হাপতালের নাম অবৈধ তালিকায় রয়েছে। এই হাসপাতালের কাগজপত্র বৈধতা রয়েছে। তাদের নাম অবৈধ তালিকার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে গেলে তাদের বলা হয় তাদের লাইসেন্স অনলাইনে করার জন্য। আর  অনলাইনে কাগজপত্র করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে তাদের সেই অনুমোদন নেই। দেদারচে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানার কোন তোয়াক্কাই তারা করছেন না।

 


এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, অনেকে লাইসেন্স এর আবেদন করে রেখেছে। তাছাড়া যাদের অনুমোদন নেই তাদের বিষয়ে আমরা সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে সিলগালা করছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার সিলগালা করেছি।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন