# চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার অভিযোগ
# ক্লিনিকগুলো সেবার নামে কসাই খানা খুলে বসেছে
# বৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিকগুলোর সেবার মান যাঁচাইয়ের দাবি
সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করে ৮৮২ টি অনিবন্ধিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। তবে এ তালিকায় নারায়ণগঞ্জের গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও তা নেই। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত রোববার সারাদেশের সকল অনিবন্ধিত ক্লিনিক, হসপিটাল, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জে জেলা সিভিল সার্জন এর তালিকার বাইরে ব্যাঙের ছাতার মত অগনিত ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার রয়েছে। যাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রোগি চিকিৎসা নিতে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন।
আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভূল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। তবে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগেঞ্জ ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধ এবং ৫৫ টি ডায়াগনিষ্টিক নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কিন্তু যারা বৈধ তালিকায় নেই তারা দেদারচে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নামকা ওয়াস্তে ব্যবস্থা নিলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আর এনিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন ছাড়া অবৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার সাহস পায় কিভাবে।
আবার কেউ কেউ বলেন অবৈধ অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা টাকার বান্ডিল নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। অনেকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালিয়েও যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার যেন কেউ নেই। এক্ষেত্রে প্রশাসনও অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে শহর সহ উপজেলা গুলোতে প্রায় ১শ’র বেশি অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার রয়েছে। তার মাঝে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ৪৭ টির তালিকা রয়েছে। যারা নিবন্ধনহীন ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাদক পায়।
তার মাঝে শহরের মেডিস্টার হসপিটালে গত বছর অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত একটি কক্ষ থেকে মাদক জব্দ করেন। তখন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডা. লায়লা পারভীন বানু উপস্থিত থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। এছাড়া শহরের প্রাইম হসপিটালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভূলচিকিৎসার অভিযোগ উঠে। তার ভূল চিকিৎসার কারনে গর্ভবর্তী মাসহ গর্ভের সন্তান মারা যান।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী দেওভোগ নাগবাড়ি, ডায়াবেটিক হাসপাতাল অবৈধ ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধেও স্বাস্থ্য শাখা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অবৈধ তালিকায় শহরের ডিআইটি রিজিয়া ক্লিনিক নিবন্ধনহীন ভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া
এদিকে ঘুরে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূইয়াপাড়া শাহ সুজা রোড সূর্যের হাসি ক্লিনিক ভিতরে খোলা রেখে বাহিরে তালা মেরে রেখেছে। নগরীর খানপুর মেইনরোড ইমন ডায়াগনিস্টিক অভিযানের ভয়ে তালা মেরে মালিক কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছেন। এছাড়া স্টার লাইফ হসপিটাল সামনে তালা মেরে ভিতরে কার্যক্রম চলে।
তাছাড়া খানপুর এলাকার গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, মেডি এইড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, নবাব সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের স্বাস্থ্য হেলথ ডিজি অনুমোদন ছাড় পত্র নেই, এছাড়া ফায়াস সার্ভিস অনুমোদন কাগজ এখনো পান নাই। তার পরেও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অন্যদিকে অবৈধ তালিকা জেলার ক্লিনিক গুলো হলো, এদিকে ঘুরে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূইয়াপাড়া শাহ সুজারোড সূর্যের হাসি ক্লিনিক ভিতরে খোলা রেখে বাহিরে তালা মেরে রেখেছে। নগরীর খানপুর মেইনরোড ইমন ডায়াগনিস্টিক অভিযানের ভয়ে তালা মেরে মালিক কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া স্টার লাইফ হসপিটাল সামনে তালা মেরে ভিতরে কার্যক্রম চলে। তাছাড়া খানপুর এলাকার গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, মেডি এইড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, নবাব সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব অবৈধ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের স্বাস্থ্য হেলথ ডিজি অনুমোদন ছাড় পত্র নেই, এছাড়া ফায়াস সার্ভিস অনুমোদন কাগজ এখনো পান নাই। তার পরেও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিজিয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে ব্যয় বহুল টাকা দিতে হয়। তাছাড়া পরীক্ষা করতে অনেক টাকা নেয়। ক্লিনিক গুলো যেন সেবার নামে কসাই খানা খুলে বসেছে। তার একটু সামনে যেতেই পপুলারের সামনে এসে দেখা যায় এখানে বিভিন্ন রোগিরা বের হতেই তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের থেকে ঔষদের প্রেসক্যাপশন নিয়ে ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যান। তাদের যন্ত্রনায় রোগির সাথে আসা অভিভাবকরা বিব্রতবোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে এখানে এক একটা ডাক্তারের ভিজিট অনেক বেশি। সেই সাথে বিভিন্ন রোগিদের পরীক্ষা নিরাীক্ষায় বেশি টাকা নেন বলে জানান দুর থেকে আসা রোগিরা। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠেছে সচেতন মহল থেকে।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন আ ফ ম মশিউর রহমান জানান, জেলায় ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, একই সাথে ৫৫ টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার রয়েছে। যারা বৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছে। বাকি যা আছে তা সবই অবৈধ।
তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি প্রতি সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ক্লিনিক বা ডায়াগনিষ্টিক পেলে তা সিলগালা করে দেই। বিবি/জেসি


