অনুমোদন নেই চাষাঢ়া প্যাথলজি মেডিকেলের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২২, ০৪:৫৯ পিএম
# অনিবন্ধনহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ করার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
# অভিযানের ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ নেই প্রতিষ্ঠানটির
স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা আনতে আর মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সাথে দেশে প্রায় ১১ হাজার বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে যাদের চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। যারা মানসম্মত চিকিৎসা দিতে পারছে না তাদের সতর্ক করে দেয়া হবে। এদিকে খোজ নিয়ে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জের নিবন্ধনহীন অবৈধ ক্লিনিক গুলো নিয়মনীতি না মেনে দিব্যি চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৪৭ টি অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে। তার মাঝে চাষাঢ়া প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টারও নিবন্ধনহীন ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।
সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন, সাংবাদিক আর দালালদের রোগী ভেদে বড় মুনাফা দেয়ার প্রেক্ষিতেই অনুমোদনহীনভাবে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বাণিজ্য করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন সেবা দেয়ার দাবি করলেও এতোদিনেও ঠিক কী কারণে তাদের অনুমোদন দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তার কোন সদুত্তর তারা দিতে পারেননি। সারদেশে যখন অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান অদৃশ্য কারণে তারা গায়ে হাওয়া লাগিয়েই ভয়হীনভাবে তারা রোগী টানছেন।
প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টারের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টার চিকিৎসেবা বানিজ্য করে আসছেন। ২ যুগের বেশি সময় ধরে ব্যবাসা করলেও বিভিন্ন সময় মালিক পরিবর্তন হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামে বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ তুলেন চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা। এখানে নিয়মিত ডাক্তারও বসেন না। জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী চাষাঢ়া প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টার বৈধ তালিকায় নেই। সেই সাথে ডিজি হেলথ এর অনুমোদন কাগজ নেই। একই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। তার পরেও অনুমোদনহীন ভাবে দিব্বি ব্যবসা করে যাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে বৈধ তালিকায় না থেকে দীর্ঘ দিন যাবৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে তারা কি করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে জেলা সিভিল সার্জনই বা নিরব কেন। অথচ তাদের বন্ধ করে দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি বন্ধ করার জন্য ৩ দিন সময় পর্যন্ত বেধে দেন। কে শুনে কার কথা। চাষাঢ়া প্যাথলজি মেডিকেলের সেই ব্যবস্থা হয়ে আছে।
প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার চন্দনা সরকার জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির হোসেন সিটি করর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আমি এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করি। তবে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিবর্তন হয়েছে। ডিজি হেলর্থের অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা দেয়া আছে। সেই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন চেয়ে আমরা কাগজপত্র জমা দিয়ে রেখেছি কিন্তু এখনো সেই কাগজ হাতে পাই নাই।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের এখানে সিভিসি, ইসিজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা হয়। প্যাথলজি ডাক্তার হিসেবে ডা. মামুনুর রশিদ খণ্ডকালীন সময় দেন। কিন্তু তাদের হসপিটাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় তাদের প্রতিষ্ঠানের তেমন একটা লোকবলও নেই। কাগজপত্র, অনুমোদন, যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় লোকবল ছাড়াই নানা প্রলোভন দিয়ে রোগী টানছেন এই মেডিকেল সেন্টারেও দালালরা। এই কাজের জন্য দালালদের একটা বড় অংশের মুনাফা দেয়া প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।
সব মিলিয়ে পুরো জেলায় ৪৭ টি অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে। যে গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে ভ্রুক্ষেপ নেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের। জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নাই।এমই/জেসি


