Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্যাথলজি মেডিকেলের চিকিৎসা বাণিজ্য

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২২, ০৫:৩১ পিএম

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্যাথলজি মেডিকেলের চিকিৎসা বাণিজ্য
Swapno

# তিনদিনের সময় দেয়ার পরেও বন্ধ হয় নাই
# প্যাথলজির খুঁটির জোর কোথায়

 

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেধে দেয়া ৩ দিনের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জের অবৈধ ক্লিনিক গুলো দেদারছে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। জেলা স্বাস্থ্য শাখা নামকাওয়াস্তে অভিযান চালিয়ে দু চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেও বেশির ভাগ অবৈধ ক্লিনিক খোলা রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের বন্ধের বিষয়ে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী পর্যন্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রম চলছে। এখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় ডায়াগনিস্টিক এবং ক্লিনিক মালিক গুলো অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।


 
এদিকে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী অবৈধভাবে দুই যুগ ধরে চিকিৎসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে চাষাঢ়া প্যাথলজি মেডিকেল এন্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদন না থাকলে তা বন্ধ করে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বন্ধ না করে দিব্বি ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনেক প্রতিষ্ঠান অবৈধ ভাবে সিভিল সার্জনকে টাকার বান্ডিল দিয়ে ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। সেই সাথে তাদের ম্যানেজ করতে না পারলে টাকার বান্ডিলের পরিমান টা বাড়িয়ে দিলে  ম্যানেজও হয়ে যায় বলে জানান একটি সূত্র।

 

 

অন্যদিকে রহস্যজনক কারণে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সকল অবৈধ তালিকা প্রকাশও করেন না বলে কয়েকটি সচেতন মহলের অভিযোগ। ফলে এই সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে মানুষের। অন্যদিকে পকেট ভাড়ী হচ্ছে  প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টারের মত অন্যান্য অবৈধ ক্লিনিক গুলো।

 

আর এতে করে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো মোটা অংকের টাকা কামিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া করোনার সময় অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তখন অনেক রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। করোনার সময় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠান গুলো এখন সচল হয়ে আবারো বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে মানুষের পকেট কাটছে।

 

সচেতন মহল এই সকল প্রতিষ্ঠানকে কসাই খানা খুলে বসেছে বলে অভিযোাগ তুলেন। তাদের এই অভিযোগ একে বারে ফেলে দেয়ার মত না। তবে  সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নাকের ডগায় চাষাঢ়া মেডিকেল প্যাথলজি নিবন্ধন না নিয়ে কি করে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের শক্তির জোর কোথায়। তারা অবৈধ হয়েও দিনকে দিন ব্যবসা করে যাচ্ছে কি করে।

 

তাদের বিরুদ্ধে যদি এখনি বন্ধের ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এই ভাবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান গুলো চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে যাওয়ার জন্য কোন কর্ণপাত করবেন না। আর তখনি মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। এর আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তখন ওই সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলেও পরবর্তীতে তারা অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আবার ব্যবসা করে যাচ্ছেন।

 

প্যাথলজি মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার চন্দনা সরকার জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির হোসেন সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আমি এখানে দীর্ঘ দিন যাবৎ কাজ করি। তবে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিবর্তন হয়েছে। ডিজি হেলথের অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা দেয়া আছে। সেই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন চেয়ে আমরা কাগজপত্র জমা দিয়ে রেখেছি কিন্তু এখনো সেই কাগজ হাতে পাই নাই। কিন্তু তাদের হসপিটাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় তাদের প্রতিষ্ঠানের তেমন একটা লোকবলও নেই। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কলটি রিসিভড করেন নাই।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন