সম্রাট-সেন্ট্রাল হসপিটালে অভিযান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ সিভিল সার্জন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২২, ০৫:৩২ পিএম
#সেবার মান নিয়ে রয়েছে অভিযোগ
#সেবার নামে মানুষের পকেট কাটার অভিযোগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে যে সকল অবৈধ ক্লিনিক, হসপিটাল, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে তা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্ধ করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তিন দিন সময় পর্যন্ত দেয়া হয়। কিন্তু সেই সময় শেষ হয়েছে দুই সপ্তাহ হতে যাচ্ছে। তার পরেও নারায়ণগঞ্জের অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধ হচ্ছে না। অনেকে দিব্বি চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
যারা বৈধ রয়েছে তাদের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সাথে তা যাচাই বাছাইয়ের দাবী তুলেন নগরবাসী। গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর খানপুর জোরা পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ম সম্রাট ও সেন্ট্রাল জেনারেল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখার পরে তাদের সিভিল সার্জন অফিসে দেখা করতে বলেন জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান।
তবে এই অভিযান নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে কেন কোন ধরণের জরিমানা করা হয় নাই। সেই সাথে এই প্রতিষ্ঠান দুটির পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে কি না। সেন্ট্রাল হসপিটাল এবং সম্রাট জেনারেল হসপিটালের অভিযানে কোন জরিমানা বা তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। সেই সাথে তাদের সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের দালালরা জেলার খানপুর ৩ শ’ শয্যা হাসপাতালে সামনে থেকে বিভিন্ন রোগী নিয়ে আসে। ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথেও তাদের সখ্যতা রয়েছে।
এদিকে জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ এসব সেন্টারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। তাছাড়া এই নগরবাসী অভিযোগ রয়েছে শহরের ক্লিনিকগুলোতে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে মানুষের পকেট কাটেন হসপিটালগুলো। আর যখনই অভিযানের কথা ওঠে তখনই তারা প্রতিষ্ঠান তালা মেরে কিছু দিন ঘাপটি মেরে থাকেন।
ইতোমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান, জেলা সিভিল সার্জন। যুগের চিন্তায় অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক হাসপাতালের তালিকা দিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়চড়ে বসেছে বিভিন্ন দপ্তর সহ ক্লিনিক গুলো। এদিকে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এবং হাসপাতালের মালিকরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রফা দফা করতে ধর্না দিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বড় ধরণের প্রস্তাব ও সুবিধার ফুলঝুড়ি নিয়ে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সচেতন মহল থেকে অবৈধ ক্লিনিকগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত দাবী উঠলেও তারা তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সচেতন মহল তথা নগরবাসী। সবকিছু মিলিয়ে মানুষ চায় তাদের চাহিদা মত চিকিৎসা। সেই সাথে মানুষ যেন ভালো সেবা পায় ক্লিনিকগুলোর প্রতি সেদিকে নজর রাখার আহবান জানান মানুষ।এমই/জেসি


