বন্ধের নির্দেশ মানছেনা ফতুল্লার মেরী স্টার হাসপাতাল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২২, ০৯:০৬ পিএম
# অনুমোদনহীন হসপিটাল বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
সারা দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়। এখানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৯৯ টি ক্লিনিক এবং ৫৫টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বৈধ রয়েছে। আর বাকি সবগুলোই অবৈধ তালিকায় আছে। তালিকার বাহিরেও অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশনার পর থেকে বিভিন্ন ক্লিনিক মালিকরা জেলা সিভিল কার্যালয়ের ভিড় জমাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ টাকার বান্ডিল নিয়ে ম্যানেজ করার জন্য চেষ্টা করছেন। কোন ক্ষেত্রে বান্ডিল একটু বড় হলে ম্যানেজ হয়েও যায় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ফতুল্লা পঞ্চবটি মোড় এলাকার মেরী স্টার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ল্যাব অবৈধ তালিকায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে তারা দিব্বি তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ দাবী করে বলেন তারা মাত্র কয়েক মাস যাবৎ প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। ইতোমধ্যে অনুমোদন নেয়ার জন্য সকল ধরনের কাগজপত্র আবেদন করে জমা দিয়েছে। এখনো অনুমোদনের কাগজপত্র হাতে পাননি। কবে নাগাত পাবে তাও সঠিক ভাবে জানেন না।
অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিকগুলো যেন কসাই খানা খুলে বসেছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করাতে গেলে অতিরিক্ত টাকা নেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারী না করে তাদের সিজার করার পরামর্শ দেয়া হয়। সিজারের অপারেশন করে ক্লিনিক হাসপাতাল গুলো মোটা অংকের বাণিজ্য করে আসছে। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাগাত ঘটছে। অনেকের ভূল চিকিৎসার কারণে রোগী পর্যন্ত মারা যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লা মেরী স্টার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ল্যাব অবৈধ তালিকা থাকলেও খোলা রেখে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ২ জন ডাক্তার উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। তাদের ডিজি হেল্থ ছাড়পত্র কাগজ নেই। সেই সাথে ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন আবেদন করলেও এখনো তা পাননি । এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজও নেই। তার পরেও তারা দিব্বি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেরীস্টার হাসপাতালের মালিক বক্তাবলী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত নারী মেম্বার মরিয়ম বলেন, আমরা মাত্র ৩ থেকে ৪ মাস যাবৎ প্রতিষ্ঠান চালু করেছি। তার আগে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক অন্য আরেকজন ছিল। তাই আমরা অনুমোদনের জন্য নতুন ভাবে সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমরা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই নাই। জেলা সিভিল সার্জন স্যার খোলা রাখতে বলায় আমরা খোলা রেখেছি। তবে আমরাও সকল অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যেতে চাই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানার কোন তোয়াক্কাই তারা করছেন না।
এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ফতুল্লা জোনটা একটু সাইডে হওয়ায় এইখানে আমাদের তেমন একটা অভিযান হয় না। কেউ যদি বলে আমরা তাদের চালু রাখতে বলেছি সেটা ভূল তথ্য। অনেকে টাকা জমা দিয়ে রেখেছে আমরা তাদের ১০ থেকে ১৫ দিন সময় দিয়েছি।এমই/জেসি


