Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

ঘুরে ফিরে সিদ্ধিরগঞ্জেই অভিযান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২২, ০৬:২৮ পিএম

ঘুরে ফিরে সিদ্ধিরগঞ্জেই অভিযান
Swapno

 

# শহরে অভিযান নিয়ে নীরব জেলা স্বাস্থ্য শাখা
# অভিযান অব্যাহত আছে : সিভিল সার্জন

 

নারায়ণগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তার মাঝে সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ক্লিন ইতোমধ্যে সিলাগালা করেছেন। কিন্তু শহরের ক্লিনিকগুলোতে তেমন কোন অভিযান নেই। অথচ এখানে একাধিক ক্লিনিক অবৈধ রয়েছে। আর এবিষযে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে জেলা সিভিল সার্জন।

 

ভূক্তভোগীর অভিযোগ এসব সেন্টারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। আর এজন্য যখনি অভিযানের কথা শুনেন তখনি বিভিন্ন ক্লিনিক মালিকরা তালা মেরে কিছু দিন ঘাপটি মেরে থাকেন। ইতিমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন। তবের ঘুরে ফিরে বারবার সিদ্ধিরগঞ্জেই অভিযান চালানো হয়। সেই সাথে এখানেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।  

 


এদিকে জেলা সিভিল সার্জন অভিযান পরিচালনা করে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল, কদমতলী ডায়াগনিস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে।

 


জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাগজপত্রে ৫ উপজেলায় ১৫৪ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে ১৫৪ টির। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয়নি অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা অবৈধ ক্লিনিক এবং ডায়াগনিষ্টিক হওয়ায় তারা ভিতরে খোলা রেখে সামনের গেইট তালা মেরে রেখেছে। আবার কেউ কেউ বাহিরের সাইনবোর্ড খোলা রেখে ভিতরে চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের চিকিৎসার মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।


আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ১০ শয্যার অনুমতি নিয়ে ক্লিনিক খোলা হলেও অতিরিক্ত শয্যা বসিয়ে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। আর এসব চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে মনগড়া চিকিৎসাব্যবস্থা। এতে চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত সহ ও স্বাস্থ্য শঙ্কায় পড়েছে জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।


সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার, তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই রয়েছে। বেশির ভাগ হাসপাতালে নেই প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার ও সার্বক্ষণিক ডাক্তার। আবার সার্জারি বিশেষজ্ঞ না হয়েও অনভিজ্ঞ ডাক্তার কিংবা আয়া-বুয়া দিয়ে করা হচ্ছে নানা ধরনের অপারেশন এবং দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাব্যবস্থা। কোনো কোনো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মেডিকেলে পড়ুয়া ছাত্র চিকিৎসা চালাচ্ছেন।


এদিকে ঘুরে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূইয়াপাড়া শাহ সুজারোড সূর্যের হাসি ক্লিনিক ভিতরে খোলা রেখে বাহিরে তালা মেরে রেখেছে। নগরীর খানপুর মেইনরোড ইমন ডায়াগনিস্টিক অভিযানের ভয়ে তালা মেরে মালিক কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছেন। এছাড়া স্টার লাইফ হসপিটাল সামনে তালা মেরে ভিতরে কার্যক্রম চলে। তাছাড়া খানপুর এলাকার গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, মেডিএইড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, নবাব সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসাল্যাব অবৈধ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের স্বাস্থ্য হেল্থ ডিজি অনুমোদন ছাড়পত্র নেই, এছাড়া ফায়াস সার্ভিস অনুমোদন কাগজ এখনো পাননি। তারপরেও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অন্যদিকে পঞ্চবটি মেরী স্টার হাসপাতাল এন্ড ল্যাব বাহিরের সাইনবোর্ড খোলা রেখে ভিতরে চিকিৎসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। 

 

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন আ ফ ম মশিউর রহমান জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে কোন না কোন ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যারা কাগজপত্র করে জমা দিয়ে রেখেছে তাদের ১৫ থেকে ২০ দিন সময় দেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, একই সাথে ৫৫ টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার রয়েছে। যারা বৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছে। বাকি যা আছে তা সবই অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি প্রতি সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ক্লিনিক বা ডায়াগনিষ্টিক পেলে তা সিলগালা করে দেই।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন