Logo
Logo
×

স্বাস্থ্য

অবৈধ তালিকায় থেকেও দিব্যি চলছে স্টার লাইফ-মেডিস্টার হসপিটাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২২, ০৫:৫০ পিএম

অবৈধ তালিকায় থেকেও দিব্যি চলছে স্টার লাইফ-মেডিস্টার হসপিটাল
Swapno


# সিভিল সার্জনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ


সারা দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তেরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে নারায়ণগঞ্জে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়। এখানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধ এবং ৫৫টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বৈধ রয়েছে। আর বাকি সব গুলোই অবৈধ তালিকায় রয়েছে। তালিকার বাহিরেও অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ রোড, মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব, শহরের প্রেসিডেন্ট রোড, স্টার লাইফ হসপিটাল অবৈধ তালিকায় থাকলেও তারা দিব্বি খোলা রেখে চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া শহরের বঙ্গবন্ধু রোড ডিআইটি এলাকার রিজিয়া হাসপাতালও খোলা রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে তারা দিব্বি তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিক গুলো যেন কসাই খানা খুলে বসেছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করাতে গেলে অতিরিক্ত টাকা নেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারী না করে তাদের সিজার করার পরামর্শ দেয়া হয়। সিজারের মাধ্যমে রোগীর থেকে  তারা বেশি টাকা পান। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকের ভূল চিকিৎসার কারণে রোগী পর্যন্ত মারা যান।

 


খোজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব অবৈধ তালিকা থাকলেও খোলা রেখে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ১০ জন ডাক্তার উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। এখানে ২০ জন রোগি ভর্তি করার ব্যবস্থা আছে। তাদের ডিজি হেল্থ এর ছাড়পত্র কাগজ নেই। সেই সাথে ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন কাগজ আবেদন করলেও এখনো তা পান নাই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজও নেই। তার পরেও তারা দিব্বি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 


অপর দিকে শহরের প্রেসিডেন্ট রোড এলাকার স্টার লাইফ হসপিটালের কোন অনুমোদন নেই। তাদের দাবী তারা নতুন প্রতিষ্ঠান দিয়েছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের মালিক সেলিম খান জানান, তারা অনুমোদেনর জন্য সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তারা এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন নাই। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তাদের প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছে। অন্য জায়গা থেকে রোগী এনে এখানে চিকিৎসা করেন। কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

ডিআইটি রিজিয়া হাসপাতালও অবৈধ তালিকায় রয়েছেন। এই হাসপাতালটি জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী পরিচালনা করেন। কয়েকজন ব্যক্তি জানান তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় প্রভাব দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ডা. নিজাম আলী দাবী করেন তারা ২২ বছর যাবৎ চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সকল ধরণের কাগজপত্র রয়েছে। তবে কোন কাগজ তারা দেখাতে পারেন নাই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানার কোন তোয়াক্কাই তারা করছেন না।

 


এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, অনেকে লাইসেন্স এর আবেদন করে রেখেছে। তাছাড়া যাদের অনুমোদন নেই তাদের বিষয়ে আমরা সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে সিলগালা করছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার সিলগালা করেছি।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন