গায়ে কাপড় থাকবেনা : চন্দন শীল (ভিডিও)
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:১৬ পিএম
মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেছেন, যাদের বিরোধিতা করার কথা সেই বিএনপি যখন চুপসে গেছে, তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি ঐ খন্দকার মোস্তাকদের, এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও আওয়ামীলীগের ভিতরে অনুপ্রবেশকারীদের, যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। আওয়ামীলীগের কোন লড়াই সংগ্রামে দেখি নাই। উড়ে এসে জুড়ে বসে আওয়ামীলীগের ক্রীম ও মাখন খাচ্ছেন, সুফল ভোগ করছেন। যারা এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আমাদের প্রাণ প্রিয় আওয়ামীলীগ নেতাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের শুধু হুশিয়ার করে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, থামেন। আপনার রূপ চিহ্নিত হয়ে গেছে। আপনার স্বরূপ উম্মোচিত, আর আগাবেন না, গায়ের কাপড় থাকবে না, নারায়ণগঞ্জের মানুষ ছেড়ে দিবে না।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চাষাড়া শহীদ জিয়া হলের সামনে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আয়োজিত একেএম সামসুজ্জোহা’র ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চন্দন শীল আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক বড় বড় বাঘা বাঘা নেতা আছেন, কিন্তু ’৭৫এ তাদরে কাউকে রাস্তায় নামতে দেখিনি। আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসে, গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসবেন, আপনার এই স্বরূপটা এখন উম্মোচিত। সাধারণ মানুষেরটা খেয়েছেন, আজকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তিও ছাড়ছেন না, মসজিদ মাদ্রাসা খেয়ে ফেলতে চাচ্ছেন। সত্যি কথা বলার কারণে হুমকি দিচ্ছেন। সত্যি কথা বলার কারণে আমার বন্ধু মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহার নামে মামলা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার দলের নেতা জাকিরুল আলম হেলাল, নিজাম, সাজনু, জুয়েলের নামে আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে আপনি আওয়ামীলীগের নেতাদের নামে মামলা দিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন, আমরা তা বরদাস্ত করবো না।
তিনি আরো বলেন, ’৭৫এ যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন শামীম ওসমান, বাদল, খোকন সাহা আমরা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। জোহা সাহেব তখন জেলে, তার জৈষ্ঠ পুত্র একেএম নাসিম ওসমান তখন বঙ্গবন্ধুর বিচারের দাবিতে যুক্ত রয়েছেন। সে অবস্থায় শামীম ওসমান তার স্কুলের বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে রাজপথে নেমেছেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে। সেই কারণে শামীম ওসমানের ওপরেও অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নাম বললে চাকুরী থাকবে না। অনেককে মিষ্টি বিলাতে দেখেছি। খন্দকার মোস্তাকের, ঐ বেঈমান মীর জাফর খন্দকার মোস্তাকের সমর্থনে অনেককে মিষ্টি বিলাতে দেখেছি।
তিনি বলেন, ’৭৫এ আপনি অনেক দায়িত্বশীল অনেক বড় নেতা ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো, আপনি বহাল তবিয়্যতে থাকলেন। শামসুজ্জোহা, গোলাম মোরশেদ ফারুকী, গোপীনাথ দাস, এরা সবাই জেলে গেল, আপনি বহাল তবিয়্যাতে নারায়ণগঞ্জে বসে থাকলেন, গায়ে বাতাস লাগালেন, খোন্দকার মোস্তাকের সহকারী, ষড়যন্ত্রকারী, পরিকল্পনাকারীদের বাড়িতে।
তিনি বলেন, আপনার নেতৃত্ব নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। আমি প্রশ্ন করে যাবোই। এর উত্তরও আমরা আদায় করে নিব। তাদের বংশধররা যখন আমার বন্ধু, নারায়ণগঞ্জের কান্ডারী, আমাদের সাহস, আশা ভরসার কেন্দ্র বিন্দু যিনি, সেই শামীম ওসমানকে নিয়ে উল্টো পাল্টা কথা বলবেন।
বাবু চন্দন শীল বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জেই থাকবো, রাজপথে থাকবো, যতক্ষণ শ্বাস আছে আপনাদের সাথেই থাকবো, নারায়ণগঞ্জকে উন্নত নারায়ণগঞ্জে রূপান্তরিত করতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আমরা রাজপথে থাকবো এবং আছি। লড়াই চলবেই। কোন বেঈমান, কোন উড়ে এসে জুড়ে বসা চামচিকা আওয়ামীলীগের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা’র আহবায়ক এইচ এম রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহিদ মো. বাদল।
প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা, আইন বিষক সম্পাদক (পি.পি)এড ওয়াজেদ আলী খোকন, জাকিরুল আলম হেলাল, জুয়েল হোসেন প্রমুখ।


