আইভী কী করলো, সেটা নিয়েই এমপি’র মাথা ব্যাথা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৪৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, কতদিন আগে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের নিয়ে অনশন হলো, পুকুর দখল করে নিয়ে গেছি। পুকুর (জিউস পুকুর) কিনেছে ঐ এলাকার (দেওভোগ লক্ষীনারায়ণ আখড়া এলাকা) ১৫ থেকে ২০ জন। সেখানে দেবোত্তর সম্মত্তি ৮ একরের উপরে। আমার নানা কিনেছে ৪ একর বাকীটা কোথায় গেল? বাকীটা মুসলমান হিন্দুরা মিলেই কিনেছে। তাতে কিন্তু সমস্যা হয়নি। কিন্তু আমাদের নারায়ণগঞ্জের মাননীয় সাংসদ, যার উন্নয়নের দিকে কোন খেয়াল নেই. কাজকর্মের দিকে কোন খেয়াল নেই। আইভী কী করলো, সেটা নিয়ে তার মাথা ব্যাথা। আর এই মাথা ব্যাথার কারণটা হলো আপনাদের (জনগণের) ভালবাসা।
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের মাহমুদ নগরে ব্রিজ উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় মেয়র আরো বলেন, আমি জানি না, আমার পাশে বসা কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ বা তার ছেলে আগামীকাল মামলা খাবে কি না? জানি না আমার পাশে বসা মুরাদ আরো একটা মামলার আসামী হবে কি না? কারণ আমার কাউন্সিলরদের নিয়ে জোর-জবস্তি তাদের সিগন্যাচার নেয়া হয়, তাদের বিপদে ফেলানো হয়, ভীতি দেখানে হয়। কিন্তু আমি আমার কাউন্সিলরদের স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমার ৩৬জন কাউন্সিলরকে নিয়ে আমার সমস্যা হয়ে গেল। তারা অসংখ্য বিপদে পড়ে যায়, যখন তখন তাদেরকে ডাকা হয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। বাচ্চাকাচ্চাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো হয়। এই ভয়ভীতি হামলা মামলার মধ্য দিয়ে আমার কাউন্সিলররা চলে। তারা কেন সিগন্যাচার দিয়ে আসলেন! কেন রাইফেল ক্লাবে গেলেন! আমি কখনো তাদের জিজ্ঞাসাও করি না। তারা স্বাধীন মানুষ, তাদের বিবেক আছে তাই আমার কোন মাথা ব্যাথা নাই। আমার মাথ ব্যাথা হলো আমি কোথায় একটি পার্ক করে দিব। কোথায় একটি মাঠ করে দিব।
মেয়র বলেন, এরকম আয়োজন করে প্রশংসা ভাল লাগে না। আমার বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথাবার্তা একটু বেশী হয়। তাই আপনারা যখন পজেটিভ কিছু বলেন, তখন অনেক সময় শুনতেও ভাল লাগে না। শহরের মধ্যে গত দুই তিন মাস যাবত শুধু শত্রুতার কারণে যেভাবে মেয়রকে ভূমিদস্যু বানানো হচ্ছে। যেভাবে শীতলক্ষ্যাতে, বুড়িগঙ্গাতে ফেলে দেয়া হয়, মনে হয় নারায়ণগঞ্জেই থাকতে দিবে না। সেখানে আপনারা যেভাবে প্রশংসা শুরু করলেন, কোনটা সত্য আর কোনটা আপনাদের মনের কথা সেটা একমাত্র আল্লাহই জানে।
তিনি বলেন, আমি যখন আপনাদের সামনে ব্রিজ উদ্বোধনের কথা অর্থাৎ উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলছি, তখন আমার বিরুদ্ধে এই মুহুর্তে রাইফেল ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছে। আমি ভূমি দস্যু, আমি ভূমি নিয়ে মডেল মসজিদ করার জন্য আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন।
তিনি বলেন, মন্ডলপাড়া ওয়াক্ফা এস্টেটের একটি জায়গা, সেখানে আমাদের পৌরসভার সহযোগিতা নিয়ে তারা কাজ করতাছে। প্রায় দশ কোটি টাকার টেন্ডার দেয়া হয়েছে। আমি সেটা কেন উদ্বোধন করলাম, ওয়াক্ফা এস্টেটের জায়গায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কেন মসজিদ করতে বললাম, এটাই হয়ে গেল আমার চরম অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী এত সুন্দর মসজিদ উপহার দিচ্ছে আমরা সেদিকে তাকাচ্ছি না। মেয়রকে ভূমিদস্যু বানাতেই হবে। সে জন্য কত ধরণের চক্রান্ত।
আইভী বলেন, হিন্দু ভাইদের ক্ষেপিয়েছে, হেফাজতরা আমাকে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করছে। আমাকে মাজার পূজারী বলে কোন লাভ হবে না। আমি মাজারভক্ত একজন মানুষ। আমি সুন্নতির মানুষ, অলি-আউলিয়াকে বিশ্বাস করি, আল্লাহ-রাসুলকে মানি। আমাকে ভয় দেখাবেন না, ভয় দেখানোর মানুষ আমি না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৬৪টা জেলার মধ্যে ৬৩টা জেলার মানুষই নারায়ণগঞ্জে আসে কাজ করার জন্য। নিশ্চয়ই আমাদের পূর্ব পুরুষরা কোন ভাল কাজ করেছে। আমাদের বন্দরে কদমরসুল মাজার আছে। আপনারা আমাকে বলেন মাজার পূজারী, অথচ এদেশে যদি শাহজালাল না আসতেন, তাহলে আমরা আপনারা কেউ মুসলমান হতাম না। অলি আউলিয়াদের যারা এভাবে কথা বলে ‘বেয়াদবের বদ নসীব, আদবে মুক্তি।
মেয়র বলেন, খুব শীঘ্রই আমরা নদীর পারগুলোতে গাছপালা লাগিয়ে ইকো পার্ক তৈরী করবো। আপনাদের সাথে নিয়েই এই কাজটি করব। বন্দরে আমি তিনটি মাঠ তৈরী করেছি। এখন আমরা সোনাকান্দা স্টেডিয়ামকে টেন্ডার দিব। যেখানেই সরকারের পতিত জায়গা আছে আমি জনগণের সাথে কথা বলে কাজ করব।


