সিদ্ধিরগঞ্জে আত্মগোপনে বিএনপি-জামাত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩৮ এএম
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে গত ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত ৮টি মামলায় এ পর্যন্ত স্থানীয় বিএনপি ও হেফাজতের কর্মী সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতায় দায়েরকৃত মামলার সর্বশেষ তথ্যাদি নিয়ে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অপরদিকে, গ্রেফতার ঠেকাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এছাড়া যেসব মাদ্রাসা থেকে ছাত্ররা বেরিয়ে বিক্ষোভ করেছে তাদের অধিকাংশ মাদ্রাসাই এখন বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ এজাহার ভুক্ত আসামীসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করতে নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ এবং ছবি সংগ্রহ করে আসামীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এনায়েত নগর এলাকার কামরুল হকের ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্র দলের সাবেক সহ-সভাপতি, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎসজীবি দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার (৩৯), মিজমিজি দক্ষিনপাড়া আমজাদ মার্কেট এলাকার মৃত ইউসুফ সরদারের ছেলে নাসিক ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য মো: মামুন মিয়া (৩৯), গোদনাইল এসও রোড মন্ডলপাড়া এলাকার মৃত ফজল ভূইয়ার ছেলে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম (৪৮), সানারপাড় বাগমারা এলাকার মৃত আসকর আলীর ছেলে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন (৪৫), নিমাইকাশারী এলাকার আ: খালেকের ছেলে, জামায়াত রোকন মো: আ: রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী ও ২নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফারুক হোসেন (৪০), নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার অহিদ মিয়ার ছেলে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী তাতী দলের সাবেক সভাপতি আলমগীর (৪৮), মিজমিজি রহমত নগর এলাকার মৃত আ: রাজ্জাকের ছেলে বিএনপি সমর্থক নুর উদ্দিন (৪২), খুলনা জেলার পাইকগাছা থানা সদর এলাকার মৃত রফিকুর ইসলামের ছেলে, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি পাগলাবাড়ী এলাকার ছবি দেখে সনাক্ত হেফাজত কর্মী মো: রাশেদুজ্জামান ওরফে মুন্না, মিজমিজি পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক ও নাসিক ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন (৪২), মিজমিজি রহমত নগর এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে বিএনপি সমর্থক বিল্লাল হোসেন (৪০), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চর মান্দারী এলাকার মৃত আ: রহমানের ছেলে, বর্তমানের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি চৌধুরীপাড়া এলাকার কাজী একে আজাদ পাহাড়ীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্র দলের সহ-সভাপতি মো: কাউছার আহম্মেদ (৩৪), চাঁদপুর জেলা সদরের রেলওয়ে ক্লাব রোডের হাতেম আলীর ছেলে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের আদর্শ নগরের আসাদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হেফাজত কর্মী মো: ফিরোজ খান (৩২), পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত বারেক হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার ৪নং গলির শাহ আলম চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া হেফাজত কর্মী মো: সাদ্দাম হোসেন (৩০), নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানার মউ গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া হেফাজত কর্মী মোয়াজ্জেম হোসাইন (৫৮) ও ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার জয়া গ্রামের মৃত ফারুকের ছেলে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া সাদ্দামের বাড়ির ভাড়াটিয়া হেফাজত কর্মী রাসেল (৩৫)। উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ রবিবার হেফাজতের ডাকা হরতালে স্বাভাবিক ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলার নানা অঞ্চল। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তা ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। তারা মহাসড়কে রীতিমতো তান্ডব চালায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে ১৮টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। নির্বিচারে চলে ভাঙচুর, দফায় দফায় বিজিবি-পুলিশ, র্যাবের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। পুরো সময়জুড়ে সাংবাদিকদের উপর চড়াও ছিল পিকেটাররা। তারা অন্তত ১২ জন সাংবাদিককে মারধর ও দু’টি মিডিয়ার গাড়ি ভাঙচুর করে। মহাসড়কটি ভোর থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। পুলিশের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে ১৮টি ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যানে আগুন, নির্বিচারে যানবাহনে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মারধর করেছে হেফাজতের পিকেটাররা। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৪০০০ রাউন্ড গুলি (রাবার, সিসা, চাইনিজ রাইফেল) ছুড়েছে পুলিশ। প্রায় এক থেকে দেড়’শ কাঁদানে গ্যাসের শেলও নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় ২৯ মার্চ সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি এবং র্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশের দায়ের করা পাঁচ মামলার প্রতিটি মামলায় ২৫-৩০ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত আরও ৪শ-৫শ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে র্যাবের মামলায় সুনির্দিষ্ট কোন নাম নেই, সেখানে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।


