করোনা ভাইরাস দেশে শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম মৃত্যুর শিকার হন রসূলবাগ এলাকার এক নারী। এরপরেই প্রথমবারের মত লকডাউন দেয়া হয় এলাকাটিতে। করোনা সংক্রমের এক বছরের পর কেমন আছে সেই রসূলবাগ? সেই এলাকায় কতজন আক্রান্ত হয়েছেন সেই ঘটনার পর থেকে? কতটাই বা সচেতন সেই এলাকার বাসিন্দারা? ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশে প্রথমবারের মত করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্ত রোগীকে পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের আল জয়নাল প্লাজা থেকে। ৩১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৫ বছর বয়সী ওই নারী। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নারীর মৃত্যুর পরপরেই তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। রিপোর্টে করোনা পজেটিভ আসার পর ২ এপ্রিল বিষয়টি প্রকাশ পায়। সাথে সাথেই নড়েচড়ে বসে নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশের মানুষজন। লকডাউন করে দেয়া হয় বন্দরের রসূলবাগ এলাকা। প্রায় ১৪ দিন রসূলবাগ এলাকার সকল বাসিন্দাকে রাখা হয় কোয়ারেন্টাইনে এবং সরবরাহ করা হয় খাবার। সেই লকডাউনের পর পেরিয়ে গেছে এক বছরেরও বেশী সময়। সরেজমিনে বন্দরের রসূলবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সার্বিক লকডাউনের ভেতরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীন এলাকার বাসিন্দারা। সকলেই যার যার মত আড্ডা আর এদিক সেদিক ঘোরাফেরায় নিজেদের সময় কাটাচ্ছেন। দোকানে বয়স্কদের আড্ডা আর খোলা স্থানে কিশোরদের খেলাধুলা চলছে আগের মতই। নেই মাস্ক পরিধানেরও আগ্রহ। সকলেই নিজেদের মত করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকা জুড়ে। অথচ এই এলাকায় দেশের প্রথম করোনা আক্রান্তে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিলো। সেই তুলনায় মানুষের মাঝে সচেতনতা ও করোনাভীতি একেবারেই নেই। রসূলবাগের সরু গলি দিয়ে হাঁটতেই চোখে পড়ে পাশাপাশি দুটি দোকানের। সেখানে জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিচ্ছে ৮/৯ জন। কারো মুখেই নেই মাস্ক। ছবি তুলতে দেখেই প্রশ্ন, ভাই কি সাংবাদিক? মাস্ক পরিনাই দেইখা ছবি তুলেন? উত্তরে স্বীকার করলে তাদের পাল্টা উত্তর, এই এলাকায় বাইরের মানুষ আহে না। আমরা সবাই একলগেই থাকি। বাড়ির গেটে বসে শাঁকের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত এক নারীর কাছে জিজ্ঞাসা করতেই দেখিয়ে দেন প্রথম করোনা আক্রান্তে হয়ে মৃত্যু হওয়া সেই নারীর বসতভিটা। চারদিকে দেয়াল আর উপরে টিনশেড দেয়া সেই বাড়িটি নিয়ে এখন আর আগ্রহ নেই কারোই। উল্টো সেই নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি এমনটাই বিশ্বাস সকলের।স্থানীয় বাসিন্দা ও কদম রসূল কলেজের শিক্ষার্থী আসলাম জানায়, রসূলবাগে করোনার শুরুতে যেভাবে লকডাউন দিয়েছিলো তারপর থেকে এখানে সবাই আগের মতই চলাফেরা করছে। এখন যেমন থাকে, তখনও এমন স্বাভাবিক ছিলো। ওই নারী মারা যাবার পর আর কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এই এলাকায়। তাই করোনা নিয়ে এত আতঙ্কিত না এলাকার মানুষরা। একই বিষয়ে কথা হয় এলাকার ভেতরের একটি দোকানে আড্ডারত স্থানীয় রাজা মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, যেই মহিলারে করোনা রোগী কইরা এখানে লকডাউন দিসে হের কোন করোনা হয়নাই। তারে জড়ায়া ধইরা তার মাইয়া, পোলারা কানছে। তাগো তো করোনা হইলো না। উনার আগে থেকেই ডায়বেটিস সহ অন্যান্য রোগ ছিলো। উনি মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৭/৮ জন আক্রান্ত হইসে শুনছি। আরও কত মানুষ থাকতে পারে এই এলাকায় যারা ঘরের ভেতরেই আক্রান্ত হয় আবার ঘরে থাইকাই ভালো হইয়া যায়। উল্লেখ্য, করোনায় এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৮৫ জন। মারা গেছেন ১৮৪ জন। মার্চ মাসের শুরু থেকে ক্রমাগত করোনা সংক্রমনের হার বেড়ে চলায় আবারও লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। প্রথম দফায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলেও আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে পুরোদমে ৭ দিনের জন্য লকডাউনে যাওয়ার কথা রয়েছে।


