সংকুচিত শীতলক্ষ্যার সমাধান কোথায়?
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন নিহত হবার ঘটনায় বারবারই উঠে এসেছে কার্গো জাহাজের বেপরোগা গতি ও নির্মানাধীন ব্রীজের কারনে নদীর প্রশস্থতার কথা। সবশেষ নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও এই দুটি কারনকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে এমন অবস্থায় কার্গো জাহাজের গতি কমানো সম্ভব হলেও নির্মানাধীন ব্রীজের কারনে সংকুচিত নদীর সমস্যা কিভাবে সমাধান করা হবে তা এখনও অজানা।
সম্প্রতি গত ১৩ এপ্রিল নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে তা এখনও গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এসকেএল–৩ কার্গো জাহাজটির বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সুপারিশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে সেতুর পিলার সরিয়ে নদীর প্রশস্ততা বাড়ানো। ছোট আকারের সাংকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ক্রমান্বয়ে সরিয়ে নেওয়া। যেখানে–সেখানে অলস জাহাজ নোঙর ও লোড আনলোড বন্ধ করা। চালকদের দক্ষ ও সচেতন করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা। সার্ভেয়ারের সংখ্যা বাড়ানো সহ ২২ থেকে ২৩টি সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিলেও এনিয়ে মুখ খুলেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে একটি সূত্র জানায়, এই তদন্তেও উঠে এসেছে কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি এবং ব্রীজের কারনে নদীর প্রশস্থতা কমে যাবার বিষয়টি। তবে কার্গো জাহাজের মালিকের দায় আছে কিনা সেই সম্পর্কে দুটি তদন্ত কমিটির কোনটিই স্পষ্ট করে কিছু জানায় নি।
নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় নৌ পথের প্রশস্থতা কমে যাবার বিষয়টি কিভাবে সমাধানের কথা উল্ল্যেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে? তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে আমাদের প্রতিবেদনটি সেরকম নয়। এখানে কিছু তারতম্য রয়েছে। আমরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নৌ পরিবহন মন্ত্রীর। ব্রীজের কারনে সংকুচিত হয়ে আসা নদীর প্রশস্থতা কিভাবে বাড়ানো হবে তা নিয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমার নেই।
তবে কবে নাগাদ প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে জানতে চাইলে বলেন, এই প্রতিবেদনটি অনেক আগেই উঠে আসার কথা ছিলো। কিন্তু করোনা সংক্রমন ও লকডাউনের কারনে এটি আটকে গেছে। আমরা নির্ধারিত ৭ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন ফাইলটি মন্ত্রীর কাছে রয়েছে। আমরা ধারনা করছি লকডাউন শেষ হবার পর খুব দ্রুতই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে তথ্য দিতে পারেননি। জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির প্রধান খাদিজা তাহেরা ববির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বদলি হয়েছেন বলে জানান অপর এক কর্মকর্তা।
নির্মানাধীন ব্রীজের পিলার সরিয়ে কিভাবে প্রশস্থতা বাড়ানো সম্ভব এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় নদী রক্ষা কমিশনের অবৈতনিক সদস্য শারমিন সোনিয়া মুরশিদ বলেন, নদী সাধারণত খনন করে এর প্রশস্থতা বাড়ানো হয়। কিন্তু নির্মানাধীন ব্রীজের পিলার সরিয়ে কিভাবে প্রশস্থতা বাড়াতে পারে এই ব্যাপারে আমার ধারনা নেই। সেদিক থেকে বলা যায় এর নক্সায় বড় ধরনের ভুল রয়েছে। যার খেসারত দিতে হবে নদী সংশ্লিষ্ট সকলকে।


