নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে নির্ধারিত সময়ে কৃষি জমিতে পানি পৌছানোর কারনে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে! এতে খুশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার কৃষক পরিবার। ধানের দাম ভাল পাওয়াতে ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। চলতি বছর উপজেলার ৪৫ হাজার ৬০০বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্প ও উওর রূপগঞ্জ সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে সংস্কারের কারনে নির্ধারিত সময়ে পানি পৌছানোর কারনে কৃষকরা ঠিক সময় জমি আবাদ করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা আর্জন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্প (এনএনআইপি) খালের ক্যানেলগুলো সময় মত সংস্কার ও মেরামত করার কারনে চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জনান, করোনাকালীন সময়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃষির উপর গুরুত্ব দিয়ে অগ্রধিকার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্প খালের ক্যানেলগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা দ্রুত দিয়েছেন। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার দ্রুত কাজ করেছে। এ জন্য চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এলাকার সেচ খাল ও ক্যানেল সংস্কার ও মেরামতের কারনে হাটাব এলাকায় ১৩৫০ বিঘা, মাছুমাবাদ এলাকায় ১৩৮৭ বিঘা, ভুলতা এলাকায় ৫৬২ বিঘা, মুড়াপাড়া এলাকায় ১৩৫০ বিঘা, দড়িকান্দি এলাকয় ১১৭০ বিঘা, মাছিমপুর এলাকায় ১৩৫০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। মাছিমপুর এলাকার কৃষক জাকির হোসেন জানান, এ বছর পানি পাওয়াতে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। প্রতি বিঘায় ২০ মন করে ধান হইছে। হাটাব এলাকার কৃষক শফিল আলম ও সামছুল মিয়া জানায়, এ বছর আমরা জমিতে ঠিক সময়ে পানি পাইছি, তাই বোরো ধানের ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও ভাল হয়েছে। মাছুমাবাদ ও ভুলতা এলাকার কৃষক রিপন বিশ^াস ও জামাল মিয়া জানায়, বানিয়াদি পাম্প ষ্টেশন ঠিকমত চালু রাখায় সরকারপাড়ার মূল খাল দক্ষিণের মেরামতের কারণে ঠিক সময়ে এলাকায় পানি পৌছেছে, এর ফলে বোরো ধানের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন হবে। মুড়াপাড়া এলাকার কৃষক নবীর হোসেন বলেন, ঠিক সময় পানি পাইছি, কৃষি অফিস আমাদের সহযোগিতা করায় চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ ভাল হয়েছে।
দড়িকান্দি এলাকার কৃষক সুবল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এ বছর সময় মতো পানি পেয়েছি। জানুয়ারির শুরুতেই সেচের পানি পাওয়াতে এবার ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। বাম্পার ফলন পেয়েছি। হাটাবো টেকপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঠিক সময় খাল সংস্কার করায় এবার প্রায় দুশ’ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাইছি ফলন ভাল পেয়েিেছ। মীর কুঠিরছেঁও এলাকার কৃষক ওসমান মিয়া বলেন, কৃষিই আমাদের ভরসা। মাছিমপুর-মীর কুটিরছেঁও এলাকায় প্রায় একশ’ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২১ মন ধানের ফলন হয়েছে ভাই। ও দাম ভাল পাচ্ছি। তাই আমরা এবার খুশি।
এব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি আফিসার ফাতেহা নুর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজগুলো ঠিক সময় হওয়ায় এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা (ডিভিশন-১) বিভাগীয় প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চত্রুবর্তী বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রতি বছরের তুলনায় এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ খালগুলো সংস্কারের কাজ বেশী হয়েছে। অগ্রণী সেচ প্রকল্পের অধীনে সময়মতো সেচ সুবিধা দেয়ায় কৃষকরা বোরো ধানের ভাল ফলন পেয়েছে।


