সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল পাম্প হাউজের প্রধান ফটক ধ্বসে নিহত-১, আহত-৬
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১২ পিএম
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) মেঘা প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প হাউজের নবনির্মিত প্রধান ফটক ধ্বসে আশরাফুল (২৭) নামে এক শ্রমিক নিহত এবং আরো ৬জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকায় শিমরাইল পাম্প হাউজের প্রধান ফটকের টপ স্লাবের ঢালাই কাজের সময় এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরে সেনা সদস্যরা দ্রুত ধ্বংসাবশেষ সড়িয়ে ফেলতে কাজ শুরু করে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশরাফুল নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার হলদীবাড়ী এলাকার জবানউদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর প্রকৌশলী মোতালেব (৩০), অপরজন সেনা বাহিনীর সদস্য।
সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের এক কর্মকর্তা গনমাধ্যম কর্মীদের জানায়, গত দুই তিন দিন ধরে শিমরাইল পাম্প হাউজের প্রধান ফটকের টপ স্লাবের সেন্টারিং এবং রড বাঁধাই শেষে আমাদের প্রকৌশলীগণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোথাও কোন ত্রুটি না পেয়ে ঢালাই কাজের জন্য নির্দেশনা দেন। সে মোতাবেক আজ সকাল ১০ টা থেকে ঢালাই চলছিল। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ সেন্টারিং ভেঙ্গে টপ স্লাবের সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ে। এতে আমাদের একজন শ্রমিক নিহত হয়েছে এবং আরো দইজন আহত হয়েছে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে, তারা সুস্থ্য আছে। তবে, কি কারণে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হবে।
তিনি আরো জানান, আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। যেহেতু টাকার বিনিময়ে মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেয়া যায় না। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন মোল্লা জানায়, একজন শ্রমিক আটকে পড়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভিক্টরিয়া জেনারেল হাসপাতালে দিয়ে এসেছি। মনে হয় সে মারা গেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫-৬৮ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার ডেমরা, কদমতলী, যাত্রাবাড়ি, শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের ৫৮ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ডিএনডি সেচ প্রকল্প। সেই থেকে ডিএনডিতে শুরু হয় অপরিকল্পিতভাবে আবাসস্থল, শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ। ক্রমশ ডিএনডি বসবাসের অনুপযোগীয় হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে ডিএনডির প্রায় পুরো এলাকায় ও শুষ্ক মৌসুমেও ডিএনডির অনেক এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে থাকতো। ফলে ডিএনডিকে আধুনিক ও বাস উপযোগী করতে ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ জুন ২০২৩ করা হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি এ প্রকল্প উন্নয়নে নতুন করে ৭৩২ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই থেকে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এ প্রকল্পের কাজ করছেন।


