Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বৈশাখ মাসে বসতভিটায় হাঁটু পানি

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৩:২৬ পিএম

বৈশাখ মাসে বসতভিটায় হাঁটু পানি
Swapno

আমাদের ছোট নদী চলে বাকে বাকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে... রবী ঠাকুরের কবিতার এই লাইনগুলো অযাচিত মনেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় এই বৈশাখ মাসের অনাবৃষ্টির সময়ে কয়েকটি পরিবারের পানি বন্দী দশা দেখে। সেখানে এই  গ্রীষ্মকালেই যেন বর্ষার দাপট। চরিদিকে থৈথৈ পানি। পানির নীচে বসতি। বসত ভিটায় হাটু পানির নীচে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার।

 

জানা যায়, গত ২ বছর যাবতই ঘরে মাঁচা পেতে বসবাস করছে বিধবা মহিলা আমেনা বেগমসহ কয়েকটি পরিবার। বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিও পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় এখন পানির নীচে তারা দূর্বিসহ জীবন যাপন করছে।
 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডহরগাও এলাকার মৃত আছান উল্লার স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫) গত ৭ বছর আগে জমিতে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেন। এখানে আরো বাড়ি নির্মাণ করেন ইয়ানুছ, রত্না বেগম, মাজহারুল ও তোতা মিয়া। কিন্তু গত ২ বছর ধরে এখানে জমে থাকা পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের ঘর বাড়ি। এলাকার মিল-কারখানা ও আশেপাশের আবাসিক বাড়ির ময়লা ও দূষিত পানি জমাটবদ্ধ হয়ে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। যার কারণে বর্ষার পূর্বেই এখানে রূপ নিয়েছে বন্যার।

 

বাড়িতে যাওয়ার একমাত্র যাতায়াতের পথ হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকোটিও এখন পানির নীচে তলিয়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এখানকার বসবাসরত মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বাড়ির চারপাশে পঁচা পানিতে ময়লা আবর্জনা ভাসছে, ছড়াচ্ছে দূর্গন্ধ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ঘরের ভিতর গিয়ে দেখা যায় বাশেঁর মাঁচা। দীর্ঘদিন এই পঁচা পানির সাথে বসবাসের কারণে রোগ-বালাই পরিবারের সদস্যদের মাঝে লেগেই আছে। এখানে চৈত্র কিংবা বৈশাখ নেই, সব সময়ই পানিবন্দী থাকে এখানকার মানুষজন।
 


জানা যায়, হোড়গাও এলাকার মজিবুর, চাঁন মিয়া ও সেলিম মিয়ার কাছ থেকে ২ বছর আগে কয়েক বিঘা জমি ভাড়া নেয় ডহরগাও এলাকার আব্দুল বাছেদ। জমিতে মাছ চাষের জন্য মাটি কেটে উচুঁ করে বাঁধ দেয়ার কারণে এখানকার পানি আর সরতে পারেনা। পানি অপসারণের জন্য একমাত্র পাইপটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এজন্য কয়েকটি পরিবার এখন পানির নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

 

বিধবা আমেনা বেগম অক্ষেপ করে বলেন, আমি ৭ বছর আগে জমিতে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করি। গত ২ বছর ধরে আমাদের কয়েকটি পরিবারের উপর নির্মম অত্যাচার চলছে। বসত বাড়ির চারিদিকে মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে আমাদেরকে এখান থেকে সরাতে চাইছে। আমরা গরীব অসহায় মানুষ, আমরা কোথায় যাব? তিনি আরও জানান, এখানে ইন্টিমেন্টাল স্পিনিং মিলস, আবাসিক বাড়ি ও হোটেলের ব্যবহৃত ময়লা পানি জমিতে পড়ে জমিটি এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে। হোড়গাঁও এলাকার প্রভাবশালীরা এখানকার খালটি বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে পরিকল্পিতভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এতে আমার বসত ঘরে হাটু পানি জমে গেছে।

 

তিনি বলেন, আমার বাড়িসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। আগে সব পানি খালে চলে যেত, এখন বাধ দেয়ার ফলে পানি জমে বসত ঘরে গিয়ে উঠেছে। ঘরের ভিতর মাঁচা বেঁধে এখন আমাদের বাস করতে হয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।
 


রূপগঞ্জ থেকে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মাননীয় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতিক) এর হস্তক্ষেপ কামনা করে আমেনা বেগম বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। মাননীয় মন্ত্রী আমার শেষ ভরসা। তিনি যেন আমাদের দিকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

 

এ বিষয়টি সুরাহা করার জন্য যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন