আবারও জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে ডিএনডিবাসী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২১, ০৬:২২ পিএম
ঝাঁঝালো রোদ আর তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো জনজীবন। বৃষ্টির জন্য হাহাকার ছিলো সর্বত্র। অবশেষে গত ২ মে রাতে নারায়ণগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তীব্র গরমের পর এমন মষলধারে বৃষ্টি প্রশান্তি বয়ে আনলেও ডিএনডি বাসির জন্য তা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরাবরের মত আবারও জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে ডিএনডিবাসি।
গত পরশুর বৃষ্টিতে রাতেই ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে হাটু পানি জমে। ধীরে ধীরে পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলগুলো থেকে সরেনি বৃষ্টির পানি। বিশেষ করে ফতুল্লার লালপুর পৌষার পুকুরপাড়, ইসদাইর, কোতালেরবাগ, সস্তাপুর, দক্ষিন সেহাচর, হাজীবাড়ি, লালখা, পূর্ব সেহাচর, ইয়াদ আলী মসজিদ রোড, ফতুল্লা রেলস্টেশন রোড, পাইলট স্কুল রোড, পিলকুনী ও দাপা ইদ্রাকপুর ও কুতুবপুরের বিভিন্ন স্থানে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব নি¤œাঞ্চলের অনেক বসত বাড়িতেও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তি চড়মে উঠেছে বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে কথা হয়, ফতুল্লার দক্ষিন সেহাচর এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী রোকসানা বেগমের সাথে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়। ড্রেনগুলো ময়লা আবর্জনায় ঠাঁসা। স্বাভাবিক ভাবে পানিপ্রবাহ হয় না। ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যানরা এগুলো সংস্কারের জন্য কোন উদ্যোগও নিচ্ছে না। এই অবস্থায় বৃষ্টির পানি ড্রেন উপচে টয়লেটের পয়নিস্কাশনের পাইপ বেয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেছে। এমনিতেই করোনার কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়, তার উপর ময়লা পানি ঘরে প্রবেশ করায় এখন পানিবাহি রোগের আতঙ্কে আছি।’
লালপুর এলাকার বাসিন্দা শুভ জানান, বৃষ্টি না থাকলেও লালপুর পৌষারপুকুর পাড়ের মানুষ জলাবদ্ধতায় থাকে। প্রতিবার বৃষ্টি মৌসুমে এখানে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হয়। এবারের কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতেও নৌকা নিয়ে চলাচলের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। রাস্তা-ঘাটে সর্বত্র পানি। পানি ভেঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। আর বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের আবর্জনা ও ডাইংয়ের কেমিক্যাল যুক্ত কালো পানি মিশে একাকার। এই পানি পারালে রোগ ব্যধির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লূৎফর রহমান স্বপন জানান, ‘জলাবদ্ধতা এখানে নতুন নয়। ড্রেন থাকলেও মানুষ আবর্জনা ফেলে ভরাট করে রাখে। আমরা পরিস্কার করিয়েও সুফল পাই না। মানুষ সচেতন নয়। তাই অল্প বৃষ্টিতেই এমন ভোগান্তি দেখা দেয়। তাছাড়া, লালপুর এলাকায় পানি নিস্কাশনের জন্য যেই পাম্প রয়েছে, বিদ্যুৎ বিলের জন্য এগুলো তারা এখন চালাচ্ছেও না। তাই ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমার বৃষ্টি হলে আমার ইউনিয়ন পরিষদও পানিতে তলিয়ে থাকে।’


