সিদ্ধিরগঞ্জে শাক-সবজির চাষের আড়ালে গাঁজা চাষের খবর পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী মতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এসও রোড এলাকার সস্তিপুর মাঠে বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গায় শাক-সবজির আড়ালে গাঁজার চাষ হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জায়গা জুড়ে আলাদা আলাদা সীমানায় অসংখ্য শাক-সবজির বাগান রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ হচ্ছে। পুরো বাগানটি সবুজে ছেয়ে আছে। এর এক পাশে ছোট একটি বাঁশের খুঁটিকে ভর করে প্রায় ৩ ফুটের মত লম্বা বড় একটি গাঁজা গাছ বেড়ে উঠেছে। বাতাসে যেন গাঁজা গাছ হেলে না পড়ে সেজন্য দেওয়া হয়েছে বাঁশের খুঁটি। গাঁছ লম্বায় বড় হয়েছে প্রায় ৩ ফুট।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই নারী-পুরুষের ভীড় জমে সবজির বাগানটির পাশে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন সানি বলেন, অনেক আগ থেকেই এখানে শাক-সবজির চাষ করে। আমরা এলাকাবাসী এমন কর্মকান্ডে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশ্রাফ উদ্দিনের অফিসের পাশে গতকালও (৩ মে) সমপরিমানের একটি গাঁজা গাছ পাওয়া গেছে। বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ এসে গাঁছটি উঠিয়ে ধ্বংস করেছে। আশ্রাফ উদ্দিন যুগের চিন্তাকে জানান বলেন, এলাকায় গাঁজা গাছের বিস্তৃতি দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বিচলিত। এ বিষয়ে প্রশাসনিক সুষ্ঠু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় স্থানীয় এক নেতার লোকজন এ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ আশ্রাফ উদ্দিনের। এলাকাবাসী জানান, বাগানটি বিআইডবিøউটিএ’র জায়গা। স্থানীয়রা নিজেদের মত করে জায়গা দখল করে বাগান করেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, আশরাফ উদ্দিনের খবরেই আমরা তার অফিসের পেছন থেকে গাঁজা গাছ উদ্ধার করে সেখানেই ধ্বংস করি। কারা এগুলো লাগিয়েছে সেটি খুজেঁ দেখা দরকার।
সূত্র জানিয়েছে, আশরাফ বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমানে সে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পারেশন (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির শেল্টারে রয়েছে। তারা আরও জানায়, এক সময় মো. আশরাফউদ্দিন, রনি, মহিউদ্দিন একসাথে বিএনপি’র নেতা সামসু পুলিশের সহযোগি হিসেবে কাজ করতেন। আর এই পুলিশের ছত্রছায়ায় তারা বিভিন্ন কাজ ক্ষমতার বলে করতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ২০১৪ সালের পর মেঘনা ডিপোর দায়িত্ব নিয়েই ডিপোর এক ইনচার্জের সাথে যোগসাজেসে অনিয়ম করে তেল পাচার করে মোটা অংকের টাকার মালিক হয়েছে মো. আশরাফ উদ্দিন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসী আরও জানায়, আশরাফসহ তার সহযোগীরা শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তেলবাহি জাহাজ থেকে রাতের আধারে তেল পাচার করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছে সে।


