Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু খুন, ১১দিন পর উদ্ধার মরদেহ, আটক ১

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২১, ০৯:৩৫ পিএম

মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু খুন, ১১দিন পর উদ্ধার মরদেহ, আটক ১
Swapno

সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে চাচাতো ভায়রার ভায়রার ৭ বছরের শিশু সন্তানকে খুন করেছে সুজন (২৮) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুজনকে আটক করলে তার দেয়া তথ্যমতে বুধবার ভোরে জালকুড়ি তালতলা এলাকার মাদবর বাজার সংলগ্ন বিলের ডোবা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশু রিয়াদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল রিয়াদ। ২৮ এপ্রিল একটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াদের বাবার কাছে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ঐদিন রিয়াদের বাবা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এবং রিয়াদের বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল এবং উপপরিদর্শক শওকত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত সুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

জিজ্ঞাসাবাদে সুজন শিশু রিয়াদকে হত্যার কথা স্বীকার করে লাশের সন্ধান দেয়। শিশু রিয়াদকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ জানায়, ২৪ এপ্রিল শিশু রিয়াদকে অপহরণ করে ঐ রাতেই তাকে হত্যার পর লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে জালকুড়ি এলাকার বিলে একটি ডোবায় পানিতে ভাসমান জঙ্গলের নিচে লুকিয়ে রাখে সুজন। আটককৃত আসামী জালকুড়ির একটি রোলিং মিলে কাজ করতো এবং চর সুমিলপাড়া এলাকায় বাস করতো। অপরদিকে শিশু রিয়াদের পরিবার মুনলাইট এলাকায় করিম মিস্ত্রির বাড়ির ভাড়াটিয়া।

 

শিশু রিয়াদের বাবা দিনমজুর রাজু জানান, তার পরিবার এবং অভিযুক্ত আসামী উভয়ের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। কর্মসূত্রে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়াটিয়া হিসেবে আলাদা আলাদা ঠিকানায় বসবাস করে। রাজু বলেন, নিখোঁজের দিন বিকেলে আমার ভায়রা সুজন আমার দুই ছেলেকে দোকান থেকে কেক কিনে দেয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে আমার দুই ছেলে কেক নিয়ে বাসায় আসে এবং আমার বড় ছেলে রিয়াদ আবার বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। আমরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে শুরু করি। আমাদের সাথে সুজনও খোঁজ করে। সুজন মাইক ভাড়া করে মাইকিংও করে। পরে অন্য একটি অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে আমার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। কন্ঠ শুনেই সুজনকে আমার সন্দেহ হয়। আমি সাথে সাথে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।

 

এদিকে মো. ইদ্রিস নামে সুজনের এক প্রতিবেশী জানান, প্রায়ই সুজন ছোটখাটো অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। চুরি, ছিনতাই ছিল উল্লেখযোগ্য। এর আগে সুজন ওয়াকিটকি ব্যবহার করে পুলিশ পরিচয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে গাড়ি আটকিয়ে টাকা উঠাতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। চুরির ঘটনায় একাধিকবার এলাকায় তার বিরুদ্ধে বিচার-শালিশ বসানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

 

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দীকি বলেন, উক্ত ঘটনায় মুক্তিপন দাবি করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার সাথে জড়িত সুজন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী শিশু রিয়াদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন