র্যাব-১১’র অভিযানে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ মে ২০২১, ০৩:৫৫ পিএম
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে মো. এসহাক আলী (৭০), মো. মামুন (৪৯), খন্দকার মো. রাজু আহমেদ মাসুদ (৫৬) ও মো. ফারুক কবির (৩৫) নামের বহুরূপী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। রোববার (৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ সিপিএসসি কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী (পিপিএম)।
বার্তায় র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ী শ্রেণির লোকজনদের টার্গেট করে বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে কখনও ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেওয়া, কখনো ডিলারশীপ পাইয়ে দেওয়া কখনো বা এজেন্ট নিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াকৃত সুসজ্জিত অফিসে ডেকে নিয়ে তারা জামানত কিংবা বিনিয়োগ বাবদ প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে এই চক্রের সদস্যরা তাদের পাতানো প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সহজ সরল ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব ও সর্বশান্ত করছে। এ বিষয়ে র্যাবের কাছে ভুক্তভোগীরা বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে র্যাব জানায়, কুমিল্লা লাকসামের মো. আবুল কালাম আজাদ নামের এক শিক্ষক, যিনি গভীর ও অগভীর আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বসানোর ঠিকাদারী কাজ করতেন। ২০১৯ সালে তাকে এই প্রতারক চক্রের কিছু সদস্য সৌদি সংস্থা কর্তৃক কুমিল্লা জেলার লাকসাম, লালমাই ও মনোহরগঞ্জ থানার কয়েকটি এলাকায় কয়েক শত টিউবওয়েল স্থাপনের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেবার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সুসজ্জিত অফিসে ডেকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা জামানত দেয়ার কথা বলে ২৮ লাখ টাকা নিয়ে সুকৌশলে আত্মগোপন করে। আবুল কালাম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নম্বর-৩০ এবং ২০২০এর ১ জানুয়ারি র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
এ বছরের মার্চ মাসে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার কাঠ ব্যবসায়ী মো. আল আমিনের সাথে এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা রিয়েল এষ্টেট কোম্পানীর মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের নির্মাণাধীন কয়েকটি বহুতল ভবনে প্রায় ২২০টি কাঠের দরজা ও দরজার ফ্রেম লাগবে বলে লোভনীয় প্রলোভন নিয়ে দেখা করে। এ সময় তারা বিভিন্ন ছল চাতুরী ও কলা কৌশলে ১১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা কৌশলে গা ঢাকা দেয়। এই বিষয়ে আল আমিন র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে অভিযোগ করে।
কুমিল্লা দাউদকান্দির কীটনাশক ঔষধ, বীজ ও সার ব্যবসায়ী মো. আবু তাহেরকে মার্চ মাসে এই প্রতারক দলের সদস্য তার সাথে সখ্যতা তৈরী করে তার দুলাভাই ফ্রেশ কোম্পানীর মালিক পরিচয় দিয়ে চাষাঢ়ার জামতলার সু-সজ্জিত অফিসে আসতে বলে। পরে তাকে কুমিল্লার ভুট্টার এজেন্ট পাইয়ে দেয়া এবং মাসে ৮০/৯০ লাখ টাকার ভুট্টার অর্ডার পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে কেটে পড়ে। এ ঘটনায় আবু তাহের র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে অভিযোগ করে।
র্যাব-১১ বিভিন্ন অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একটি গোয়েন্দা দল দীর্ঘ ও নিবিড় অনুসন্ধান করে এই বহুরূপী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। র্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা মাসদাইর এলাকা হতে এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য খন্দকার রাজু আহমেদ মাসুদকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তিকে ঐদিন বিকাল ৫টায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূলহোতা এসহাক আলী ও তার সহযোগী ফারুক কবিরদের ফতুল্লা থানার দেওভোগ লিচুবাগ এলাকার এসহাক আলী’র বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় এসহাক আলী’র দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার দিবাগত রাত দেড় টায় গলাচিপা হতে অন্যতম সদস্য মো. মামুন (৪৯)কে গ্রেফতার করা হয়।
উপরোক্ত মাত্র ৩ জন ভূক্তভোগীর অভিযোগ র্যাবের কাছে আসলেও প্রকৃতপক্ষে এই প্রতারক চক্রের প্রতারণায় প্রায় শত শত জন ব্যবসায়ী নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। গত ১৫ বছর যাবৎ তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতারক চক্রটি কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। তারা এর আগে কখনো গ্রেফতার হয়নি। এরা প্রত্যেকেই প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানায় র্যাব।


