সিদ্ধিরগঞ্জের গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টে উপচে পড়া ভিড়
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২১, ০৪:৩৫ পিএম
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছিল লকডাউন। রেস্টুরেন্টগুলোতে সরকারি নির্দেশনা ছিল বসে কেউ খাবার খেতে পারবেন না। তবে পার্সেল নিয়ে যেতে পারবেন। তবে এ নির্দেশনা সিদ্ধিরগঞ্জের অনেক রেস্টুরেন্টগুলো মানলেও মানছে না চিটাগাংরোডের ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিপরীত পাশে অবস্থিত গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টটি।
সোমবার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টটি খোলা রেখে কাস্টমারদের বসিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট মালিক পক্ষ কোনোরকম নিয়ম না মেনেই রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছে। রেস্টুরেন্টটিতে খেতে আসা মানুষের মুখে মাস্ক নেই। ছোট বড় সবাই গাদাগাদি করে এক জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। নো মাস্ক নো সার্ভিস এর কোনো বালাই নেই রেস্টুরেন্টটিতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা হলেই রেস্টুরেন্টে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের ভীড় দেখা যায়। নেই প্রশাসনের নজরদারি। এ রেস্টুরেন্টটির কারণে উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।
তামান্না তিশা নামক এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থী জানান, তিনি নিয়মিত এই রেস্টুরে›টে খাওয়া-দাওয়া করতে আসেন। তিনি কখনো লকডাউনের মধ্যে রেস্টুরেন্টটিতে বসে খাওয়ার বিষয়ে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেখেননি।
জীবন আহমেদ নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টটিতে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিয়ের আয়োজনও করা হচ্ছে। তিনি সবসময় রেস্টুরেন্টটিতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম নুর মোহাম্মদ’র বড় ছেলে আলমগীর ও ছোট ছেলে অভি এবং তার দুই জামাতা জাহাঙ্গীর ও মূসা, এই ৪ জন গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করে আসছে। মূসা বর্তমানে ৩নং ওয়ার্ড কমিশনার শাহজালাল বাদলের অন্যতম সহযোগী।
গ্রীন গার্ডেন রেস্টুরেন্টটির মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে বাধ্য নন বলে জানান।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।
উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত রবিবার (৪ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে হোটেল রেস্তোরাঁর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁসমূহ কেবল খাদ্য বিক্রি সরবরাহ করতে পারবে। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না।


