Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কোমায় বন্দর আওয়ামীলীগ, বিরোধীদের রাজত্ব

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২০ মে ২০২১, ০৭:৫২ পিএম

কোমায় বন্দর আওয়ামীলীগ, বিরোধীদের রাজত্ব
Swapno

বন্দরে ঘুমন্ত আওয়ামীলীগের কাঁধে চড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে রাজত্বের অংশীদারে সামিল বিএনপি-জামায়াত এমনকি তালিকাভ‚ক্ত রাজাকারের বংশধরেরাও। আর এতে করে ক্ষোভে ফুঁসছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীগণ। উপজেলার নাসিকের আওতাভূক্ত ওয়ার্ডগুলোসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সকল স্তরেই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা তৈরী করে চলছে তাদের তান্ডব।

 

এলাকাভিত্তিক নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় বিভিন্ন অনুদানসহ সরকারী বিভিন্ন সহায়তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের নেতৃত্বসহ বিভিন্ন পদে আওয়ামী লীগ জাতীয়পার্টি ও বিএনপি নেতারা মিলে ভাগাভাগি করে নিতে। ত্যাগী নেতারা এটাকে ক্ষমতা ও অর্থলোভী নেতাদের একটা কৌশল বলে উল্লেখ করে জানান, ভবিষ্যতে কোন কারণে ক্ষমতা পরিবর্তন হলে তাদের যেন কোনপ্রকার ভোগান্তিতে পড়তে না হয় এবং রাজনৈতিক ফায়দার ভাগাভাগিতে নিজের একটা অংশ থাকে সেজন্য তারা ব্যক্তিস্বার্থে স্বাধীনতা বিরোধী ও স্বৈরাচারীদের সাথে হাত মিলায়। আর এ কারণেই দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা দলের সব ধরণের সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।


 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্দরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডের ৬টিতেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলো থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দু’একজন হয়তো নিজের যোগ্যতায় নির্বাচিত হয়েছেন, তবে বেশীরভাগই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সহায়তায় এবং তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নির্বাচিত হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তারাও তাদের নিজের পজিশন ঠিক রাখার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ তাদের তুলনায় জাতীয়পার্টির সমর্থথিত সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ও তার সাথে ঘনিষ্ঠদের আনুগত্যতা প্রকাশ করতেই বেশী ব্যস্ত ও স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আর এরই মধ্যে সেলিম ওসমান এমপি বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যারা আছেন তাদেরকেই পুনরায় নির্বাচিত করার ঘোষণা দেন।

 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ আওয়ামী লীগপন্থী হলেও তিনিও জাতীয়পার্টি সমর্থিত প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের স্নেহভাজন ছিলেন। তিনি বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানেরও আনুগত্য। তারা নারাজ হন এমন কোন কাজ তিনি করেন না। বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার দলীয় কর্মকান্ডে কিংবা তৎপরতা দেখা যায়নি। দেখা যায়নি এই করোনার দুঃসময়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বন্দর আওয়ামী লীগ এর দলীয় কোন কর্মতৎপরতা।


 
সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক। তার সাথে বর্তমান এমপি পরিবারের সাথে সখ্যতা থাকায় তিনি সহজেই ভাইস চেয়াম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ ও ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন জাতীয়পার্টির সমর্থক, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন ও সদ্য প্রয়াত কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ সাগর, ২৩নং ওয়ার্ড সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও এদের প্রায় সবাই বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের আশীর্বাদের আশায় জাতীয়পার্টির সাথে সখ্যতা তৈরী করতে ব্যস্ত থাকেন।

 

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতৃবৃন্দের দাবী আওয়ামী লীগ যদি সত্যিকারের অর্থেই চেষ্টা করতো তাহলে এখানে হয়তো একটি বা দুইটি কাউন্সিলর হাতছাড়া হতো। কিন্তু কিছু স্বার্থলোভী তাদের ব্যক্তি স্বার্থ লাভের আশায় তাদের সাথে আঁতাত করে তাদের নির্বাচিত হতে সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে খ্যাত রফিক রাজাকারের পুত্র মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের দাপটে বর্তমানে মুসাপুর এলাকাবাসিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দও তার ভয়ে সন্ত্রস্ত। বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ জাতীয়পার্টির কর্মী বলে জানা যায়।

 

এছাড়া বাকি যারা আছে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে জাতীয়পার্টির পরিচয় দিতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের তুষ্ট করতেই তারা বেশী ভালবাসেন। সব কিছু মিলিয়ে বন্দর আওয়ামী লীগ এখন কোমায় আছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলার একাধিক নেতা ও কর্মী। তারাও এখন তাদের দলীয় কর্মকান্ড করার সাহস বা সুযোগ কোনটাই পাচ্ছেন না বলে জানান তারা। এমনকি তারা এখন জাতীয়পার্টির দাপটে এবং ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না বলে জানান তারা।


 
এবিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, বন্দর উপজেলা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অন্তর্ভূক্ত, আর সেখানকার সংসদ সদস্য যেহেতু জাতীয়পার্টির। তাই স্বভাবতই তারা জাতীয়পার্টিকে সমর্থন করবে এবং যারা জাতীয়পার্টির সমর্থক তাদের সুযোগ বেশী দিবে। যারা আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা সুবিধাভোগী তারাতো সুবিধা আদায়ের জন্য অর্থ, বিত্ত, স্বার্থ আদায়ের জন্য তাদের সাথে মেলামেশা করে।

 

যারা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা তারা ঐ জিনিসটা পছন্দ করে না। তারা দলের বাইরে যেতেও পছন্দ করে না। তারা দাঁতে দাঁত কামড়িয়ে দলের নিয়মিত কর্মী হিসেবে টিকে আছে। তারা হারতেও চায়না আবার দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতেও চায়না। তাই তারা অন্য দলের সাথে মিশতে পারে না। তারা দলের নিয়মিত কর্মী হিসেবে থাকতে চায়। আর যারা থাকতে চায় না তারা সুবিধা নিতে অন্য দলের সাথে জাতীয়পার্টি কিংবা বিএনপির সাথে মিশে যায়। সেখানে দলের নেতৃত্বে যারা আছে তারাতো তাদের সুবিধার জন্য জাতীয়পার্টির সাথে আঁতাত করে তাদের মতো তারা চালিয়ে যাচ্ছে, সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন