Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কুতুবপুরে বিতর্কিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ফুঁসছে মানুষ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২১ মে ২০২১, ০৫:৩২ পিএম

কুতুবপুরে বিতর্কিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ফুঁসছে মানুষ
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পাগলা নন্দলালপুর উত্তর মহল্লায় ‘ইজ্জতের দাম ১২ হাজার টাকা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকে ধর্ষক শাহাদাতের পক্ষ নেওয়া পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মজিবর, সাধারণ সম্পাদক শহীদ ও আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

এছাড়া, তাদের নানাবিধ অপকর্মের অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা থানা পুলিশকে না জানিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় গোটা ফতুল্লাজুড়ে।


তাদের ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের ঘটনা মিমাংসা যোগ্য নয়-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন প্রচারনা চালিয়ে আসলেও ওই পঞ্চায়েত নেতারা তা তোয়াক্কা করেননি। আইনকানুন না জানা বা তোয়াক্কা না করা ব্যক্তিরা কি করে পঞ্চায়েত প্রধান হলেন- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। তারা বলছেন, একটি সমাজ ব্যবস্থাপনায় যদি এমন ব্যক্তিদের প্রধান চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়, তাহলে স্থানীয় সমাজ ব্যবস্থায় কতটুকু কল্যাণ বয়ে আনবে- তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। জানা গেছে, সভাপতি হাজ্বী মজিবর ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।


আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতাসহ নন্দলালপুর উত্তর মহল্লার আব্বাস বিন ইজ্জত আলী সভাপতি হাজ্বী মজিবর ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা কিভাবে বর্তমান পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান নেতৃত্বে আছেন তা বোধগম্য নয়। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিনিয়ত সরকার বিরোধী স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্বেও বিএনপি জামাতের লোকেরা যদি সমাজের নেতৃত্বে থাকে তাহলে সমাজকে বিতর্কিত করবেই তারা।

 

বেশকিছু দিন আগে মহল্লার একজন রাজমিস্ত্রীকে অহেতুক ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমন কি তাদের দাবীকৃত টাকা না পেয়ে রাজমিস্ত্রীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার মত পাশবিক ঘটনাও ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু কী তাই? নন্দলালপুর উত্তর মহল্লা জামে মসজিদ নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগ। ওয়াকফ্ করার পূর্বেই ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করে তারা। এই নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও চলমান। তাদের সকল অপকর্মের সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোড়ালো দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


প্রসঙ্গত, ফতুল্লার কুতুবপুরে এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে শাহাদাত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে পাগলা নন্দলালপুর উত্তর মহল্লা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মজিবর, সাধারণ সম্পাদক শহীদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম বিচার শালিসীর নামে ১২ হাজার টাকার মাধ্যমে মিমাংসা করেন। মীমাংসার কথা বলে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে সই রেখে ভুক্তভুগীর ইজ্জতের মূল্য ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ওই পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা।

 

গত ১৭ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাগলা নন্দলালপুর উত্তর মহল্লা পঞ্চায়েত কমিটির কার্যালয়ে ওই ধর্ষণের ঘটনাটি বিচার শালিসীর নামে ধামাচাপা দেয়া হয়। তবে, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়। এই বিষয়ে গত ১৯ মে দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। জানা যায়, ধর্ষক শাহাদাত (২২) কুমিল্লার লাকসাম থানাধীন সাতেশ্বর গ্রামের হাজী বাড়ীর মৃত আবুল কালামের ছেলে। বর্তমানে পাগলা নন্দলালপুর উত্তর মহল্লায় সকিনা বেগমের বাড়ীতে ভাড়ায় বসবাস করছে।


ভুক্তভুগী মেয়ের নানি বলেন, ‘গত ৫ মে সকালে আমি কাজে চলে যাই। সেই সুযোগে শাহাদাত (২২) আমার নাতনীকে জোরপূর্বক ‘ঢাকা ম্যাচ’ নামক একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আমি কাজ শেষে বাড়িতে এসে তা জানতে পারি। আমার নাতনীকে না পেয়ে শাহাদাতের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে শাহাদাত কিছুই জানেন না বলে জানায়। আমি থানায় নিখোঁজ জিডি করেছিলাম। একদিন পর আমার নাতনী বাসায় এসে কান্না করে এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বলেন। শাহাদাত তাকে ঢাকা মেছের একটি অজ্ঞাত স্থানে একদিন আটকে রেখেছিলেন।

 

এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে আমি পূনরায় থানায় যেতে চাইলে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মজিবর, সাধারণ সম্পাদক শহীদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম আমাকে বলে, “থানা পুলিশ করার প্রয়োজন নেই। আমরা এই বিষয়টি মীমাংসা করে দিবো।” একপর্যায়ে ১৭ই মে পঞ্চায়েতের ক্লাবে তারা ১২ হাজার টাকার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন এবং স্ট্যামে স্বাক্ষর রাখেন। আমি স্বাক্ষর করতে চাইনি, কিন্তু তখনকার পরিস্থিতির কারণে স্বাক্ষর না করেও উপায় ছিলো না।” 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন