Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় যমুনা ট্যাংক লরির শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা উধাও ! 

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২১, ০৬:১৬ পিএম

ফতুল্লায় যমুনা ট্যাংক লরির শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা উধাও ! 
Swapno

মাত্র তিন মাসের জন্য করা হয়েছিল আহবায়ক কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী এর মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের হাতে। কিন্তু না, আহবায়ক কমিটির প্রধান মতিন মুন্সি ক্ষমতার জোরে বৈধ কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন না। উপরন্তু শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের ৫/৭ লাখ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগও উঠেছে আহবায়ক কমিটির  সদস্যদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের যমুনা ওয়েল ট্যাংকলরী শ্রমিক কমিটির আহবায়ক মতিন মুন্সির বিরুদ্ধে।

 

তার এ অপকর্মের সাথে আহবায়ক কমিটির অপর ৪ সদস্যেও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। ঈদ উল ফিতরের আগে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অনুদান দেয়ার বিধান থাকলেও আহবায়ক মতিন মুন্সি ও তার লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন। শ্রমিকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ফতুল্লার যমুনা ডিপোর আশপাশে মতিন মুন্সির ব্যানার ফেস্টুনে চুনকালি মেখে দিয়েছেন। শ্রমিকদের দমন করে রাখতে  মতিন মুন্সি ও তার লোকজন ইতিমধ্যে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও  দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কমিটি না করে আহবায়ক কমিটি যমুনা ওয়েল ডিপোর ট্যাংক লরি শ্রমিক কমিটিকে পুতুল  কমিটি করে রাখতে চাচ্ছে এমনটিই জানিয়েছেন শ্রমিকরা।  প্রায় ৩০ বছর আগে ফতুল্লার যমুনা ট্যাংক লরি শ্রমিক কমিটি করা হয়েছিল।

 

শ্রমিক ফেডারেশন কর্তৃক স্বীকৃত সংগঠনটির নাম করণ করা হয় বাংলাদেশ ট্যাংক লড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন। ফতুল্লার যমুনা ট্যাংক লরিগুলোতে ২/৩শ শ্রমিক কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে। এ সমস্ত হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন যমুনা ওয়েল ডিপোর ট্যাংক লড়ির শ্রমিক ইউনিয়নে আহবায়ক হিসেবে আসেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মতিন মুন্সি। তাঁর সাথে আরো আহবায়ক কমিটিতে রয়েছে আরো ৪জন সদস্য। ৩ মাসে শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৫/৭ লাখ টাকা। এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডে জমা হওয়ার কথা। ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকরা আশা করেছিলেন কল্যাণ ফান্ড থেকে আর্থিক অনুদান পাবেন। কিন্তু আহবায়ক কমিটির সদস্যরা ঈদের আগেই শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের টাকা  তাদের না দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন মতিন মুন্সি,আজিজ,জাহিদুর রহমান জাহিদ,বাচ্চু শেখ মোট ৫জন।

 

শ্রমিকরা আশায় ছিলেন,কল্যাণ ফান্ডে তাদের যে টাকা আয় রয়েছে তা দিয়ে পরিবার পরিজনের মুখে ঈদের সকালে সামান্য সেমাই চিনি তুলে দেবেন।  কিন্তু শ্রমিকরা যখন জানতে পারলেন মতিন মুন্সি ও তার সহযোগীরা ৫/৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তখনই তারা মতিন মুন্সির বেশ কিছু ব্যানারে  চুনকালী মেখে দেয়। এ নিয়ে ঈদের আগেও শ্রমিকদের সাথে আহবায়ক কমিটির লোকজনের সাথে মতাক্যৈ দেখা দেয়। এমনটিই জানিয়েছেন  ট্যাংক লরি শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানান,ঈদের আগে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা দেয়া হয়নি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।  শ্রমিকরা যাতে কোনো আন্দোলন সংগ্রাম না করতে পারে এবং ইউনিয়নটিতে কমিটি না দিয়ে যাতে নিজের আখের গোছাতে পারে সেজন্য ফতুল্লা মডেল থানায় বেশ কয়েকজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন মতিন মুন্সি।

 

তবে তিনি  নিজে অভিযোগের বাদী না হয়ে বাচ্চু শেখকে দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগটি দিয়েছেন। যা ইউনিয়নে কমিটি না দেয়ার অপচেষ্টা।  এব্যাপারে আহবায়ক কমিটির সদস্য বাচ্চু বলেন,আহŸায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ইউনিয়নটি বর্তমাস আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন মতিন মুন্সি। তিনি আমাকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। আমি তার কথায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।  বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এই প্রতিবেদককে না দিতে  পেরে বাচ্চু শেখ এ ব্যাপারে আহবায়ক কমিটির প্রধান মতিন মুন্সির  চুপ করে ছিলেন।  

 

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের  শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো  অভিযোগ আসছে কিনা তা তিনি  জানেন না। তদন্ত শেষে অফিসার আমাকে কোনো বিষয়ে  জানালে আমি বিস্তারিত জানতে পারবো।  এব্যাপাতে ফতুল্লা মডেল থানার  এসআই সারোওয়ার্দী বলেন, তদন্ত চলছে।  তদন্ত শেষে কথা বলতে পারব্যো।  এব্যাপারে  জানতে মতিন মুন্সির  মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাই  ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন