সারাদিন হাড় ভাঙ্গা খাটুনি। এর মধ্যে শ্রমিকদের কাছ থেকে শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ ফান্ডের জন্য নেয়া হয় ৭০ টাকা। এভাবে প্রায় ১ শতাধিক ট্যাংক লরি শ্রমিকদের কাছ থেকে দৈনিক ৭০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বিগত ৩ মাস যাবৎ। চাঁদা আদায় বাবদ শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে না কোনো ধরনের রশিদ। তবুও তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে চাঁদা দিতে। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো।
ফতুল্লার যমুনা ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নে নয়া কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মতিন মুন্সি ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে। কিন্তু আহবায়ক কমিটির দোহাই দিয়ে পূর্নাঙ্গ কমিটি না করে মতিন মুন্সি ও তার সাথের লোকজন নানা রকম পায়তারা করছে বলে অভিযোগ । শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎতের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচনের দাবীতে যমুনা ডিপোর শ্রমিকরা মতিন মুন্সির বিরুদ্ধে দুপুরে যমুনা অয়েল ডিপোর সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
এসময় মতিন মুন্সি ও তার লোকজন শ্রমিক ইউনিয়নের ভেতরেই অবস্থান করছিল। তারা শ্রমিক অসন্তোষের ভয়ে অফিস থেকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। গত ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের টাকা শ্রমিকদেরকে না দেয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ক্ষোভ। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে অনেকে। প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফতুল্লার যমুনা ডিপোর শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের একটি শাখা কাজ করছে। তবে বিগত দিনে যারা শ্রমিক নেতৃত্বে ছিলেন তারা শ্রমিকদের জন্য তেমন কিছু করেননি। বেশিরভাগ নেতাই আখের গুছাতে ব্যস্ত থেকেছেন।
গত ৩ মাস আগে যমুনা ডিপোর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহবায়ক হয়েছেন কেন্দ্রীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মতিন মুন্সি। তার সাথে আরো ৪জন রয়েছেন আহবায়ক কমিটির সদস্য। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইউনিয়নটিতে নির্বাচন না হলেও সিলেকশনের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ কমিটি হওয়ার কথা। কিন্তু আহবায়ক কমিটির প্রধান মতিন মুন্সি ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও পূর্নাঙ্গ কমিটি না করতে নানা রকম তাল বাহানা শুরু করেছে বলে অভিযোগ যমুনার ট্যাংক লরি শ্রমিকদের। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎতের বিরুদ্ধে এবং পূর্নাঙ্গ কমিটির দাবীতে শ্রমিকরা রবিবার দুপুরের দিকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা।
গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকদের কাছ থেকে ৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় করার জন্য রয়েছেন শহীদ নামের একজন ব্যাক্তি। তিনি যমুনা অয়েল ডিপোর ভিতরে বসেই চাঁদা আদায় করেন। প্রতিটি ট্যাংক লরি থেকে ৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন তিনি। শ্রমিকদের কাছ থেকে আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে যে চাঁদা আদায় করছেন সেই টাকার কোনো রশিদ দিচ্ছেন না শহীদ। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিন যে চাঁদা তিনি উত্তোলন করেন সেই টাকা তিনি ক্যাশিয়ারের কাছে জমা দেন। ক্যাশিয়ার সেই টাকা মতিন মুন্সির কাছে জমা দিয়ে থাকেন। তাকে চাঁদা আদায়ের জন্য কোনো ধরনের রশিদ মতিন মুন্সি দেননি।
বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানান,মতিন মুন্সির দায়িত্ব একটি কমিটি করে দেয়া। কিন্তু তিনি সেই কাজ থেকে সরে গিয়েছেন। ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও নতুন কমিটি যাতে না হয় সেজন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছে। ঈদের আগে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা শ্রমিকদের না দিয়ে তিনি ও তার অন্য আহবায়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কারো ফোন তিনি রিসিভ করেননি। তিনি আহবায়ক কমিটির প্রধান হয়ে ঈদের আগে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যা সংবিধান পরিপন্থী। শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে যে শুভেচ্ছা তিনি ব্যানার ফেস্টুন বানিয়েছিলেন শ্রমিকরা তার ঐ ব্যানার ফেস্টুনে কালি মেখে দিয়েছে। তিনি যদি বৈধ কমিটির হাতে শ্রমিক নেতৃত¦ তুলে না দেন তাহলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে। এর দায়ভার মতিন মুন্সিকেই নিতে হবে।
শ্রমিকরা আরো জানান, শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করে আবার সেই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মতিন মুন্সি ও তার লোকজন। এভাবে চলতে থাকলে মতিন মুন্সি ও তার লোকজনদের ট্যাংক লরি শ্রমিক সংগঠনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে।
এব্যাপারে যমুনা ওয়েল ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক ও ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মতিন মুন্সির মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।


