আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে গ্রামাঞ্চলেও। কিন্তু ঢাকার নিকটবর্তী ফতুল্লা রয়েছে গেছে এখনো অনেক পেছনে। প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান রাজনীতির মাঠে প্রভাবশালী হলেও উন্নয়নের ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে। শ্রমিক অধ্যুষিত ফতুল্লাবাসী এখনো বছরের বেশিরভাগ সময় থাকেন পানিবন্দী।
গত দুইবছর যাবত ডিএনডি প্রজেক্ট স্বপ্ন দেখালেও এখনো সুবিধা নিতে পারেনি ফতুল্লাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে গোটা ফতুল্লা এলাকা। যদিও ফতুল্লা এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নিতে ইচ্ছুক জনপ্রিয় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফতুল্লাবাসীও সিদ্ধিরগঞ্জ, শহর এবং বন্দরেরর উন্নয়ন দেখে সিটি করপোরেশনের সাথে সংযুক্ত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসছে মেয়র আইভীর দপ্তরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লা এলাকার মানুষ এখনও যাতায়াতেও পেছনে। যেখানে সিটি করপোরেশন এলাকায় পিছিয়ে পড়া এলাকার গলির রাস্তাও প্রশস্ত সেখানে ফতুল্লার মানুষের প্রধান রাস্তাগুলো অবস্থা নাজুক। ইসদাইর, টাগাড়পাড়, ফতুল্লা, লালপুরসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা তো দূরের কথা সেখানে মানুষ বানভাষী মানুষের মতো লড়তে হচ্ছে পানির সাথে। এসব এলাকার বাড়িগুলোতেও ভাড়াটিয়া থাকছেনা। বাড়িঘরও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। যদিও এমপি শামীম ওসমানের তরফ থেকে নানাজনকে দায়িত্ব দেয়া হয় সমস্যা সমাধানের জন্য। কিন্তু এটি তখনই হয় যখন মানুষের সমস্যা সমাধানের আর কোন গতি থাকেনা। কিছুদিন পর পর মানুষের পুরোনো সমস্যা আবারো নতুন করে ফিরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। রাস্তাগুলো বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানির নিচে থাকায় সেসব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খাবার পানিরও সংকট রয়েছে। রয়েছে রান্নাবান্নার সমস্যা। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। স্থানীয় এমপি সাহেব থাকেন ঢাকায়। আর নারায়ণগঞ্জে থাকলেও অবস্থান করেন শহরে। ফলে ফতুল্লা এলাকার পানিবন্দী মানুষ কি ধরণের কষ্ট করছেন সেটি তিনি ঠাওর করতে পারেননা।
স্থানীয়রা জানান, ফতুল্লা এলাকার কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে শহরে নিয়ে ছুটতে হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের কাছাকাছি যেসব হাসপাতাল রয়েছে সেগুলো কিছুটা ভালো। এখানে কোন সরকারি হাসপাতাল নেই। তারা বলেন, মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে দুটি হাসপাতালের থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু আদতে সেসব হচ্ছে কাগুজে। অস্তিত্ব নেই। ডাক্তাররা নাকি বসে বসে বেতন নেন। এলাকার মানুষের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। শামীম ওসমান হাসপাতাল করবেন করবেন বলছেন তাও বছর গড়িয়ে আরেক বছর এসে পড়লো।
ফতুল্লার বিসিক এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জ নাকি ফ্লাইওভার হবে। এই পর্যন্তই শেষ। কিন্তু এখনো লাখো শ্রমিক কাজে যান পানি মাড়িয়ে। দেখার কেউ নেই। শামীম ওসমান শুধু নারায়ণগঞ্জে এসে নানাজনকে দায়িত্ব দিয়ে যান কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
ফতুল্লা জোনের এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ করে জানান, উন্নয়ন নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার হয়েছে ফতুল্লার। এসব শুধু মুখে মুখে। বাস্তবে যে কেউ ফতুল্লায় এসে দেখলেই বুঝতে পারবে কীভাবে উন্নয়নে ভাসছে ফতুল্লাবাসী।
ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, শামীম ওসমান শুধু আশা দেখিয়েই যাচ্ছেন কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, শহরের উন্নয়ন দেখলে ফতুল্লাবাসী আশাহত হন। তাদেরও ইচ্ছা জাগে, তারা সিটি করপোরেশনের সাথে অন্তর্ভূক্ত হন।


