Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রাজত্ব বজায় রাখতেই তৃণমূলকে ধ্বংসের চেষ্টা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২১, ১২:০৪ এএম

রাজত্ব বজায় রাখতেই তৃণমূলকে ধ্বংসের চেষ্টা
Swapno

চোখের সামনে ধীরে ধীরে ধার হারিয়ে নিষ্ক্রিয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ একযুগেরও বেশী সময় ধরে এই এলাকায় আওয়ামী লীগের কোন সংসদ সদস্য না থাকায় স্থানীয় সুবিধাবাদী নেতারা যখন জাতীয় পার্টির মধ্যে আওয়ামী লীগকে বিলীন করে দিচ্ছে। চোখের সামনে যখন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জাতীয় পার্টির তোষণ রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের দল ও দলের তৃণমূলকে ভুলে যান, তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কান্ডারিরা যারা মনে প্রাণে আওয়ামী লীগকে ধারণ করেন, তারা তাদের সাধ্য মত চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য।

 

আকুতি জানান দলকে রক্ষা করার জন্য, আর ঠিক তখনই নিজের অবৈধ রাজত্যকে বজায় রাখতে ও প্রসার করতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে এসে এখন অবৈধ বিভিন্ন উপায়ে অর্থবিত্ত গড়ে তোলার সহজ পন্থার জন্য জাতীয় পার্টি ও তার চেয়ে নিকৃষ্ট অর্থাৎ রাজাকারের পরিবারের সন্তানদের সাথে হাত মিলিয়ে সেই সব তৃণমূলকে ছোখ রাঙানি দিচ্ছেন ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ। তিনি আবার এখন আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে দল থেকে বের করার হুমকীও দেন।

 

অথচ স্থানীয় একাধিক তৃণমূল নেতা জানান, বর্তমান কমিটির কোন নেতাকর্মীদের সমর্থন না পেয়ে সব প্রাক্তনদের নিয়ে, রাজাকার গংদের ছত্রছায়ায় ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশ করছেন তিনি। তাকে কিন্তু স্থানীয় কোন সমাজ বিরোধী কাজে এমনভাবে তার সুবিধাবাদিদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের যারা জাতীয় পার্টি ঘেঁষা না, তাদের সাথে কোন সভা সমাবেশ এমনকি জনকল্যাণমূলক কোন কাজে তাকে এতটা স্বতস্ফুর্ত হয়ে কাজ করতে দেখা যায়নি। মাসুম চেয়ারম্যানের ধামগড় এলাকা এখন মাদকের অভয়ারণ্য। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখানে সবসময় ভীত থাকতে হয় স্থানীয় জনগণের। এই মাসুম চেয়ারম্যানের সেসব দিকে কোন খেয়াল নেই।

 

কয়েক মাস আগেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের মালিকানাধীন বন্দর উপজেলার বারপাড়া এলাকার মেসার্স হাজী রিয়াজ ব্রিক ফিল্ড-১ ও মেসার্স হাজী রিয়াজ ব্রিক ফিল্ড-২ নামের ইটভাটা দু’টিতে অভিযান চালায়। সে সময় তার একটি ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং আরেকটির জন্য ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইটভাটার কার্যকলাপ বন্ধের নির্দেশ দেন। এর পর বিভিন্ন সময় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকে সন্তুষ্ট করতে তার বিভিন্ন সভা সমাবেশে তাকে হাইব্রীড, পরগাছা ও আওয়ামী লীগ বিরোধীদের নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাদের তুষ্টি লাভের চেষ্টায় ব্রত হতে দেখা যায়।

 

দলের কোন কর্মী বিরোধীদের দ্বারা নির্যাতিত হলে তাতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। দলীয় কর্মীদের ন্যায্য দাবি বা কাজেও তাদের কোন সম্পৃক্ততা থাকে না, বরং তাদের দাবিয়ে রেখে নিজের স্বার্থ হাসিলে তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। এখানকার কমিটি গঠনে উপরের সারির নেতাদের সাথে পরামর্শ করে নিজেদের সুবিধাবাদিদের পদে বসানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকে যাতে তার রাহুগ্রাসের বাহু শক্তিশালী হয়। আর এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তিনি দলীয় কান্ডারীদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন।

 

এলাকাবাসি জানান, মাসুম আহমেদ চেয়ারম্যান হওয়ার পর এসব এলাকায় মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, ছিনতাই, এলাকায় অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগের চেয়ে বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকদাতাদের শেল্টারে পরিণত হয়েছেন তিনি। এই সব বিষয়ের প্রতিবাদতো দুরের কথা তার কাছে কেউ নালিশ করতেও কেউ সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তিনি তার বাহিনী নিয়ে তাদেরকে দমানোর জন্য মাঠে নামান। তারা আরো জানান, মাসুম চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু এখন সে ক্ষমতা পেয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ছে, তার সেই সম্পদ বাড়ানোর জন্য তিনি যে শুধু জাতীয় পার্টির প্রেমিক হয়ে গেছেন তা নয়, তিনি এখন মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজটি করেছেন সেই রাজাকার পরিবারের পক্ষ হয়েও কাজ করছেন।

 

তিনি নির্বাচনে গেলে এবার নিশ্চিত পরাজিত হবেন আর তার গড়ে তোলা স¤্রাজ্যের হিসেব দিতে হবে তৃণমূলের কাছে। তাই তিনি বিনা ভোটেই চেয়ারম্যানের পদটি পুনরায় ছিনিয়ে নিতে চান। আর এ জন্য যদি এমপির একটু সাহায্যের হাত পাওয়া যায় তাহলে তার পোয়াবারো। জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যদি এসব লোকদের বিষয়ে একটু খোঁজ নেন তাহলে বড় গলা করে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ না করে তারা নিজেদের সংশোধন করতেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন