জ্যৈষ্ঠের তীব্র তাপদাহে তপ্ত দেহ-মনে স্বস্তির ছোঁয়া নিয়ে প্রকৃতিতে আষাঢ় আসে। আষাঢ়ের বার্তাবাহক হলো কদম ফুল। কদম ছাড়া আষাঢ় যেন কল্পনা করাই যায় না। বর্তমানে অনাদর অবহেলার কারণে কদম হয়ে গেছে একটি দুর্লভ ফুলের নাম। শিল্পোন্নত রূপের রূপগঞ্জ হতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আষাঢ়ের বার্তাবাহক সেই প্রিয় কদম ফুলের গাছ। ফলে কোথাও আর আগের মতো কদম গাছ চোখে পড়ে না। যেন দাগ পড়েছে ‘কদম’ ফুলের সৌন্দর্র্যে। এক সময় আষাঢ়ের পুরো সময়টা রূপগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কদম গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা ফুলে ফুলে ভরে থাকতো।
সৌন্দর্য পিপাসু মানুষেরা তা দেখে তৃপ্ত হতেন। বাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তার দু‘পাশে কদম গাছের সারিগুলো পথিকের নজর কারতো। গ্রামের শিশু-কিশোররা কদম তলায় ফুল নিয়ে খেলা করতো। মানুষ প্রিয়জনকে কদমফুল উপহার দিতো। আজ ধীরে ধীরে তা একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে। ছোট বলের মতো দেখতে এ ফুলের ভেতরভাগে রয়েছে মাংসল পুষ্পাধার। যাতে হলুদ রঙের পাপড়িগুলো আটকে থাকে। পাপড়ি মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগ। হলুদ-সাদা কদমফুল গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে দেখতে সুন্দর লাগে।
এ ফুল আমাদের দেশে দেখা গেলেও এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চলে, চীন ও মালয়ে। এটি কদম নীপ নামেও পরিচিত। এছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক,মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি ইত্যাদি মনোহর সব নাম রয়েছে কদমের। জানা যায়, অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার কদম ফুল। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য খুব কম। এই কদম গাছের কাঠ নরম হওয়ায় আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। তবে এই কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও কাগজ ছাড়াও তৈরি হয়ে থাকে বাক্সপেটরা।
বর্তমান যুগের মানুষ লাভের অঙ্কের হিসাব করে তার বাড়ির আঙ্গিনায় কদম গাছ লাগাতে চাইছে না। বরং কদম গাছের জায়গায় মেহেগোনি, রেইন্ট্রিসহ নানান দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে। এইভাবে প্রকৃতির মাঝ থেকে কদমগাছ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। চোখ জুড়ানো ঘন সবুজ পাতার মাঝে হলুদ বন্ধুতায় চিরচেনা কদম গাছ এখন নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্পে পরিণত হচ্ছে। তবে বর্ষা ঋতুতেই বাংলার কবিরা জীবনের প্রথম কাব্য রচনা করায় বাংলা সাহিত্যের রিমঝিম আষাঢ় কদমকে চিরসঙ্গী করে রেখেছে।


