Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

অপরিকল্পিত উন্নয়নে বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে ফতুল্লা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২১, ০৮:২৯ পিএম

অপরিকল্পিত উন্নয়নে বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে ফতুল্লা
Swapno

দিনে দিনে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ফতুল্লা থানা এলাকা। এই থানা এলাকার একমাত্র বক্তাবলী ইউনিয়ন ছাড়া বাকী চারটি ইউনিয়ন আরো বহুকাল আগে থেকেই শহর এলাকা হলেও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই এলাকাকে কাগজে কলমে গ্রাম বানিয়ে রেখেছেন। এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লার ইউনিয়নগুলিকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করতে চাইলেও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বাধার কারণে তিনি এসব ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি ইউনিয়ন হলো কাশীপুর, এনায়েতনগর এবং ফতুল্লা ইউনিয়ন। এই তিনটি ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার জন্য মেয়র বার বার চেষ্ঠা করছেন বলে জানিয়েছে এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন সূত্র। এসব ইউনিয়ন থেকে গন্যমান্য ব্যাক্তিরা মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতাভূক্ত করার অনুরোধ করলে মেয়র তাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি আরো আগে থেকেই এসব ইউনিয়নকে সিটির আওতায় নিতে চেয়েছেন। কিন্তু সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বাধা দিচ্ছেন। এর আগে শামীম ওসমানের নির্দেশে উপজেলার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বাররা মানববন্ধনও করেছেন।

 

এছাড়া এসব ইউনিয়নকে সিটির আওতায় নিতে হলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের একটি রিপোর্ট প্রয়োজন। ইউনিয়নগুলি যে শহর এলাকায় পরিণত হয়েছে এই রিপোর্টটি দিতে হবে জেলা প্রশাসককে। কিন্তু সেখানেও স্থানীয় সংসদ সদস্য হস্তক্ষেপ করছেন। মূলত এমপি নাখোঁশ হবেন এই ভয়েই মেরুদন্ড সোজা করে বিগত বছরগুলিতে কোনো জেলা প্রশাসক সঠিক রিপোর্ট পাঠাননি এবং বর্তমান জেলা প্রশাসকও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে ফতুল্লা। অপরিকল্পিত উন্নয়ন এখন ফতুল্লাবাসীর নিয়তি।

 

যার ফলে ফতুল্লা থানা এলাকায় এখন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এই থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ইউনিয়নগুলির কোথাও কোনো সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থা গড়ে তোলেননি শামীম ওসমান। যদিও এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন তিনি। তেমন কোনো ড্রেনেজ সুবিধা না থাকায় গোটা বর্ষাকাল জুরে বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকছে এলাকা। যার ফলে ফতুল্লাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ফতুল্লায় কোনো ময়লা নিস্কাশন ব্যাবস্থাও নেই। এলাকাবাসী ঘর গৃহস্তালির কাঁচা ময়লা ফেলার কোনো জায়গা বা ব্যাবস্থা না থাকায় অনেকেই যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখছে।

 

ফলে গোটা ফতুল্লা থানা এলাকা একটি নোংরা এলাকায় পরিণত হচ্ছে। এছাড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংস্থা না থাকায় এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদগুলির চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদগুলির তেমন কোনো ফান্ড না থাকায় তারাও কোনো সমস্যারই সমাধান দিতে পারেন না। তাদেরকে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এমপি ডিও লেটার দিলে পরে এলজিআরডি বা উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন কাজ করেন। কিন্তু এসব উন্নয়ন নূন্যতম কোনো রকম পরিকল্পিত না হওয়ায় একই এলাকার রাস্তাগুলি কোনোটি উঁচু আবার কোনটি নিচু হয়ে থাকে। কেনোনা কোনো মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী তারা কোনো কাজ করেন না। তার প্রমান ফতুল্লা থানা এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলেই বুঝা যায়।

 

অথচ পাশের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দিকে তাকালেই বুঝা যায় আসলে পরিস্থিতি কি? নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী। যার ফলে সিটির মানুষ এর সুফল ভোগ করছে। গোটা সিটি করেপোরেশন এলাকায় গভীর ড্রেন নির্মান করা হয়েছে। তাই কোথাও তেমন কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো প্রত্যেকটি এলাকার সমস্যা দেখার জন্য কাউন্সিলরদের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন।

 

এছাড়া এক হাজারের বেশি পরচ্ছিন্ন কর্মী প্রতিদিন সিটি করপোরেশন এলাকাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন। তাই সব কিছু মিলিয়ে ফতুল্লার তুলনায় অনেক বেশি ভালো আছেন সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষ। তাই এখনই যদি ফতুল্লা থানা এলাকাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করা না হয় তাহলে অত্র আগামী দিনে কোনো মানুষ বসবাস করতে পারবে না। একটি পরিত্যক্ত এলাকায় পরিণত হবে ফতুল্লা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন