Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কুতুবপুর মাদকের হাট, ব্যবসায়ীরা অধরা!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২১, ১২:৪৮ এএম

কুতুবপুর মাদকের হাট, ব্যবসায়ীরা অধরা!
Swapno

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা  দেয়ার পর সারা দেশে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় প্রশাসন। এসব অভিযানে কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেফতার ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সাঁড়াশি অভিযানে ফতুল্লার  বড় বড় মাদক কারবারি চলে গিয়েছিলো আত্মগোপনে। কিন্তু বর্তমানে চলমান এই অভিযান শিথিল হওয়ায় জেলার সদর উপজেলার বড় বড় মাদক কারবারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে মাদক কারবারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদকের ব্যাপকতায় যেমন উঠতি বয়সী যুবকরা বিপদগামী হয়ে উঠছে, তেমনই অভিভাবকরাও হয়ে উঠছে দিশেহারা।

 

একাধিক সুত্র জানায়, সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চলছে মাদক কেনা বেচার হিড়িক। ইউনিয়নটির অলিগলি মাদকের হাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এসব এলাকার মাদক বিক্রেতারা হয়ে উঠছে বেপরোয়া। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে কয়েক শতাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারী। তাদের মধ্যে নারীসহ কয়েক জনের মাদক কারবার এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।  

 

এরা হলো-পাগলা বাজার স্টুডিও এলাকার আলমাছের ছেলে শাহ আলম, পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার সালামের ছেলে রনি ওরফে  পেঁচা রনি, নয়ামাটি এলাকার সামসুল হকের ছেলে সেলিম, পশ্চিম নয়ামাটি এলাকার জলিলের ছেলে হাফিজ, চিতাশাল খালপাড় এলাকার মজিবরের স্ত্রী ও মেয়ে সনিয়া, চিতাশাল খালপাড় এলাকার সেকান্দারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া পাখি ও তার স্বামী নভেল। চিতাশাল খালপাড় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিতাশাল খালপাড় এলাকায় ভোর ৫ টা থেকে মজিবুরের বাড়িতে চলে জমজমাট হিরোইন বেচাকেনা।

 

ভোর থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত চলে এই মাদকের স্পষ্ট। অনেকেই এই মাদকের স্পট থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন। সাংবাদিক, পুলিশ, পুলিশের সোর্স, এলাকার নেতা সহ বিভিন্ন লোকজন এই স্পষ্ট  থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্রের অভিযোগ। তবে প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন যাবত এখানে মাদক  বেচাকেনা চললেও পুলিশ  প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে  কোনো ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। নয়ামাটি এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তারপরেও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে মাদক। করোনার কারণে মাদক অভিযান তুলনামূলক কম থাকায় ব্যপক আকার ধারণ করেছে এই মাদক।

 

তাই এখন থেকেই এই ভয়ানক মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এইসব মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।  অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিয়ে থাকে মাদক কারবারিরা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।  সুত্র আরও জানায়, পশ্চিম নয়ামাটি এলাকার জলিল ও তার ছেলে হাফিজ এবং তাদের সিন্ডিকেটে রয়েছে অসংখ্য নারী। তারা হিরোইন বিক্রি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী এই নারীদের চলাফেরা বেপরোয়া হওয়ায় মান সম্মানের কথা চিন্তা করে কেউ  কিছু বলেন না।  

 

পাগলা স্টুডিও এলাকার আলমাছের ছেলে শাহ আলমের বিরুদ্ধে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা বহু বছর যাবৎ ইয়াবা ব্যবসা করে আসায় প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করছেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক  জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়। ফলে কোন মানুষ ভয়ে এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ।  

 

তারা আরও জানান, কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বছর বছর ধরে চালিয়ে আসছেন মাদক ব্যবসা। আর মাদকের ছোবলে পড়ছে উঠতি বয়সী যুবক, তরুণ ও কলেজ শিক্ষার্থীরাও। এদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার করা না গেলে ভবিষ্যত প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হবে বরে মনে করছেন সচেতন মহল। এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে, ফতুল্লা থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদেরকেও অতি শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।

 

অভিযোগ রয়েছে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাদকের স্পর্টগুলো চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে যদি কেউ এই ধরনের অভিযোগের সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন