পানিতে থৈ থৈ করছে ফতুল্লার লালপুর, ইসদাইর ও এনায়েতনগরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকা। এসব এলাকায় বৃষ্টি না থাকলেও পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তা ঘাট। আর বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যায় বসত বাড়ি। সড়ক পথে চলে নৌকা! কেবল বৃষ্টির পানিই নয়, এর সাথে যোগ হয় আশপাশের ডাইং কারখানার ক্যামিকেল যুক্ত বিষাক্ত তরল বর্জ্য ও পয়নিস্কাশনের দূষিত পানি। বছরের পর বছর তা মাড়িয়েই চলতে হচ্ছে লাখো মানুষকে। তা নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমাধানে এগিয়ে এসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটির সদস্য সচিব সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা। গতকাল পূর্ন কমিটি নিয়ে প্রতিনিধি দল পরিদর্শণে যায় ফতুল্লার লালপুর পৌষার পুকুরপাড় ও এনায়েতনগরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়। এর মধ্যে লালপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তারা ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় সওয়ার হন।
এসময় প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আজিজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিএনডি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর প্রতিনিধিরা।জলাবদ্ধতার এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গঠিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির প্রত্যেকেই। প্রথমে ফতুল্লার লালপুর এলাকা পরিদর্শনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিসিক শিল্প নগরী এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।
পরিদর্শনের পর জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা লালপুর ও বিসিক এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এটা নিয়ে আগামীকাল (আজ) মিটিংয়ে বসে সিদ্ধান্ত হবে যে, কোন উপায়ে জলাবদ্ধতা দুর করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘লালপুরের জলাবদ্ধতা দুরকরণে কাজ করতে গেলে আগে সেখানে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। তাই ডিএনডি প্রজেক্টের পক্ষ থেকে লালপুর পাম্প হাউজে একটি পাম্প দেয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি দীর্ঘদিনের পুরনো। এতো পরিমানে বিল জমেছে, তা আগে অবগত ছিলাম না। আজ শুনলাম। বিদ্যুৎ বিলের বিষয়েও মিটিংয়ে কথা হবে। বিল নিয়ে সমাধানের পথ খুজে বেড় করবো।’
ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ গঠিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সকলে পরিদর্শনে এসেছেন। কোন দিক দিয়ে পানি নিস্কাশন করা যায়, এটা নিয়ে একটি ম্যাপ তৈরী করতে বলেছে। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ডিএনডি প্রজেক্টের প্রতিনিধিরা বলছেন, এটা নিয়ে তেমন কিছু করার নেই। কারণ এলাকাটি পার্শ্ববর্তী খালের চেয়ে নিচু। তাই পানি খালে নেয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তারা আপাতত একটি পাম্প দিতে চাচ্ছে। কিন্তু পাম্প দিলেওতো বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমস্যা থেকে যাবে। বিদ্যুৎ বিল বহন করার মত ইউনিয়ন পরিষদের এতো বড় ফান্ড নেই। মাসে ৩ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল কিভাবে দেব। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তারা এখনো কিছু বলেনি। তারা বলছে রাস্তা ঘাট ও বাড়ি ঘর উচু করতে। খালে পানি আসলে তারা পাম্প দিয়ে পানি সেঁচবে। এখন রাস্তা ঘাট ও বাসা বাড়ি উচু করাও তো সবার পক্ষে সম্ভব নয়।’
এদিকে, এনায়েতনগরের বিসিকে জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো ঐতিহ্যবাহি কালিয়ানী খাল দখল। স্থানীয়রা বলছেন, কালিয়ানী খাল দখলমুক্ত করা গেলেই ওই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। এই বিষয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন গঠিত একটি টিম বিসিকে অবস্থিত কালিয়ানী খাল পরিদর্শনে আসে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর ডিএনডি প্রজেক্টের কর্মকর্তারাও এসেছিলেন। তারা বলেছেন প্রাথমিক ভাবে খালে জমে থাকা আবর্জনা ভেকু দিয়ে পরিস্কার করতে। এরপর পানি প্রবাহিত হলে পরবর্তীতে দখলদারদের তালিকা ধরে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ফকির গ্রুপের কালভার্ট করায় যেসব স্থানে খাল দখল হয়ে আছে, সেগুলো উচ্ছেদের বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেয়নি। হয়তো পরবর্তীতে নির্দেশনা আসতে পারে।’


