Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দরে সাংগঠনিক অস্তিত্ব সংকটে আ’লীগ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২১, ০৭:৪৮ পিএম

বন্দরে সাংগঠনিক অস্তিত্ব সংকটে আ’লীগ
Swapno

সেলিম ওসমান এমপির কারণে বন্দর থানা এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে পতিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে যতো দিন যাচ্ছে ততোই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব সংকট বাড়ছে। বিশেষ করে থানার পাঁচটি ইউনিয়ন এলাকায় এখন আর আওয়ামী লীগের তেমন কোনো সাংগঠনিক বিত্তি নেই বললেই চলে। ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মতে সেলিম ওসমান প্রথমত একজন ব্যাবসায়ী নেতা।

 

তিনি রাজনীতি বুঝেন না। রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়ার চেয়ে তিনি ব্যাবসায়ী সংগঠনগুলিকে নেতৃত্ব দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। দ্বিতীয়ত তিনি জাতীয় পার্টির এমপি। তাদের মতে ব্যাক্তি হিসাবেও তিনি দাম্ভিক এবং অহংকারী। একরোখা সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগের ২/৪ জন ছাড়া তেমন কাউকে পাত্তা দেন না। এক কথায় তিনি একজন অতি দাপুটে এমপি। তাই বড় গাছের নিচে যেমন কোনো ছোটো গাছ জন্মায় না। তেমনি তার মতো অতি বড় মানুষের ছায়া তলে থেকে অস্তিত্ব সংকটে পরেছে বন্দর আওয়ামী লীগ। তাকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বাধীন ভাবে কোনো কর্মসূচিও পালন করতে চান না।

 

তবে বন্দর থানা এলাকায় এখন জনসাধারণের মাঝে পরিচিতি আছে এমন তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা হলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান। এই তিনজনের মাঝে এম এ রশিদ সেলিম ওসমানের লোক হিসাবে পরিচিত। আনিসুর রহমান দীপু এক সময় ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি মেয়র আইভীর পাশে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আবু সুফিয়ান মেয়র আইভীর লোক হিসাবে পরিচিত হলেও এখন তিনি নিস্ক্রিয়। আর বাকীদের তেমন কোনো পরিচয়ই নেই।

 


এদিকে এক সময় বন্দরের এসএম আকরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি ওসমান পরিবারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গত নির্বাচনে তিনি মাহমুদুর রহমান মান্নার দল থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে লড়াই করেছেন। মূলত এসএম আকরাম আওয়ামী লীগ ছাড়ার পর থেকেই বন্দরে ক্রমশই দুর্বল হতে থাকে আওয়ামী লীগ। আর এখন সেলিম ওসমানের ইচ্ছা অনিচ্ছার দলে পরিণত হয়েছে এই দলটি।

 


এদিকে বন্দর থানার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ড হলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অংশ। আর পাঁচটি ইউনিয়ন হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অংশ। কিন্তু সেখানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের তেমন কোনো প্রভাব নেই। মূলত স্থানীয় এমপির প্রভাবের কারণেই সেখানে তাদের তেমন কোনো প্রভাব নেই বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্যের ভাগবাটোয়ারা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার জন্য তৃণমূলের কিছু নেতা এমপি মুখী।

 


এছাড়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও এমপি আওয়ামী লীগকে তেমন কোনো গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন নিজের লোকদেরকে। বর্তমানে যে পাঁচজন চেয়ারম্যান রয়েছেন তাদের মাঝে তিনজন জাতীয় পার্টির আর দুইজন আওয়ামী লীগের। কিন্তু তারা সকলেই এমপির লোক হিসাবে পরিচিত। তাই এমপি এবারও এই পাঁচজনকেই রেখে দেয়ার কথা বলছেন। সম্ভব হলে তিনি বিনা ভোটে রেখে দিতে চান বলে এরই মাঝে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। তাই পাঁচটি ইউনিয়নের আরো যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তাই বন্দর আওয়ামী লীগের অনেকে মনে করেন এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে বন্দরে আওয়ামী লীগের আস্তিত্ব বিলিন হয়ে যেতে পারে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন