# প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগি আসছেন ভিক্টোরিয়ায় : আরএমও
# লক্ষণ ডায়রিয়া ও ঘন ঘন বমি
# উদ্বিগ্ন চিকিৎসক ও স্থানীয়রা
# অধিকাংশ রোগি লালপুরের
ফতুল্লায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিনই প্রায় অর্ধশত রোগি পানিবাহিত রোগ নিয়ে ভীর করছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। ক্রমেই রোগটির ব্যপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘গত বেশ কিছুদিন ধরেই ফতুল্লার লালপুর, ইসদাইর, কুতুবপুরসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশুরা হাসপাতালে আসছেন চিকিৎসা নেয়ার জন্য। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ জনের মত রোগি আসছেন। কখনো কখনো তা আরো বাড়ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানির সাথে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও পয়নিস্কাশনের পানি মিশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো মাড়িয়ে চলাচল করায় বা কোন না কোন ভাবে ওই দুষিত পানি মুখে যাওয়ায় পানিবাহিত এই রোগ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগির ডায়রিয়ার পাশাপাশি বমির লক্ষণ আছে। বিষয়টা উদ্বেগ জনক।’
লালপুর পৌষার পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘লালপুরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম আসায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে। আমাদের আশপাশের প্রতিবেশিরা প্রতিনিয়ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সাথে বমিও হচ্ছে। গত পরশু এমন একজন রোগিকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পর দেখলাম জরুরী বিভাগে আসা অধিকাংশ রোগি একই রোগে আক্রান্ত। আর ডিউটি ডাক্তাররা লালপুর এলাকার রোগি শুনলেই বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চাচ্ছেন যে, লালপুরে হলোটা কী? চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ রোগিই লালপুর ও ফতুল্লা থেকে আসছেন। এই অবস্থায় আমরা ভীত হয়ে পড়ছি। পানির কারণে এখানে ডায়রিয়া বা কলেরা রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।’
স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কাজী মাঈনুদ্দিন দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান, ‘লালপুরের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এসব বাসাবাড়িতে থাকা পানির মটরও তলিয়ে আছে। তাই অনেকেই ধারণা করছেন যে, ময়লা পানি মটরের পাইপের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করে এবং মটর ছাড়ার পর ওই ময়লা পানিও পাইপ হয়ে ট্যাংকিতে উঠে আসছে। কারণ যাদের মটর পানিতে তলিয়ে আছে, তারা পানিতে অস্বাভাবিক গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এমনটা হলে এখানে মহামারি আকার ধারণ করবে। তাই যেকোন উপায়ে এই জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কেবল লালপুর এলাকাই নয়, ইসদাইর, টাগারপাড়, মাসদাইর, কুতুবপুরসহ ফতুল্লার প্রায় প্রতিটি এলাকা থেকে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি রোগি আসছেন পানিবাহিত রোগ নিয়ে। ডায়রিয়া ও বমিতো আছেই, সেই সাথে পানি পারিয়ে অনেকের পায়ে ঘাঁ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, লালপুর এলাকাটি ডিএনডি প্রজেক্টের অর্ন্তভুক্ত হয়নি। তাছাড়া, পার্শ্ববর্তী নলখালি খালের সাথে লালপুর পৌষার পুকুর পাড় এলাকার অভ্যান্তরিন ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংযোগ নেই। তাছাড়া, নলখালি খালটিও আবর্জনার কারণে গভীরতা হারিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার তুলনায় অপেক্ষাকৃত উচু হয়ে আছে। যার কারণে ড্রেনের পানি খালে যেতে পারছে না। ফলে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে, ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী টাগারপাড় সহ কুতুবপুর এলাকাতেও রয়েছে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র।
এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে জেলা প্রশানের পক্ষ থেকে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই কমিটি লালপুর এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের পথ খুজে পাচ্ছেন না বলে কমিটির বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে, আপাতত ডিএনডি প্রজেক্ট থেকে লালপুর পাম্প হাউজে শক্তিশালি ২টি পাম্প দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনডি প্রজেক্ট অফিসার ক্যাপ্টেন মো. সাদমান।


