Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দর আ’লীগের ত্রাতা হবেন কে ?

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম

বন্দর আ’লীগের ত্রাতা হবেন কে ?
Swapno


দেশের জনগণের কাছে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই অঙ্গিকারবদ্ধ থাকে। আর যদি সেই দল ক্ষমতায় থাকে তাহলেতো কথাই নেই। কিন্তু টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পরেও যদি এলাকার নেতৃত্ব দলের বাহিরে থাকে এবং নেতৃত্ব দানকারি যদি হয় প্রভাবশালী তাহলে অঙ্গীকার ব্যর্থতার কারণে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থা হয় শোচনীয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পারে অবস্থিত বন্দর উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বর্তমানে আকাল চলছে। 

 

এখানকার নির্বাচিত সাংসদ জাতীয় পার্টি সমর্থিত হওয়ায় জাতীয় পার্টির মাঝে বন্দর আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। এখানকার আওয়ামী লীগকে খুঁজতে হলে প্রথমে খুঁজতে হবে জাতীয় পার্টিকে। এখানকার আওয়ামী লীগের মধ্যে দুইটি বলয় কাজ করে। একটি জাতীয় পার্টি ঘেঁষা এবং অন্যটি জাতীয় পার্টি বিরোধী। এই এলাকায় জাতীয় পার্টির সমর্থিত সাংসদ থাকায় এখানে জাতীয় পার্টি ঘেঁষা আওয়ামী লীগের কদর অনেকটাই বেশী। আর যারা আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে এখনো বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের ভালবাসাকে ছাড়তে পারেননি তারা এখন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য লড়ছেন।

 

 জাতীয় পার্টির মাঝে হারিয়ে যাওয়া নেতাকর্মী যারা আছেন তারা এখন শুধু আকাশে উড়ছেন। মাটিতে চোখ ফেলার সময় তাদের নাই। এতে তাদের পায়ের নীচে যদি কোন পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগ কর্মী পিষে মরে তাতেও তাদের কিছু যায়-আসে না। আর সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও জনগণের কাছে অঙ্গীকার করা কিংবা সেই অঙ্গীকার রক্ষা করার সামর্থ্য না থাকায় ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন তারা, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটি। বন্দর উপজেলাসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বন্দর আওয়ামী লীগের এই দুর্দশা দেখে কপাল চাপড়াচ্ছেন, কিন্তু বন্দর আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবর্তিত হচ্ছেন না কেউ।


 
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগ এখন প্রধানত দুইটি বলয়ে বিভক্ত। এর একটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী’র সমর্থিত এবং দ্বিতীয়টি ওসমান পরিবারের সমর্থিত। যদিও এর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ আছে, যারা এই দুইটি বলয়ের বাইরে থাকতে পছন্দ করেন এবং নিজেদের প্রকৃত আওয়ামী লীগের ধারক-বাহক হিসেবে বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। এরমধ্যে ওসমান পরিবার সমর্থিত আওয়ামী লীগের মাঝে জাতীয় পার্টির অংশীদারিত্ব থাকায় এরা সদর ছাড়াও বন্দর এলাকায় অনেক শক্তিশালী। মেয়র সমর্থিত সদর এলকায় প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ্য হলেও বন্দরে তারা ওসমান পরিবারের কাছে অনেকটাই দুর্বল।

 

অন্যদিকে এই দুই বলয়ের বাইরে থাকা যারা আছেন তারা বন্দর আওয়ামী লীগের এই অবস্থায় আফসোস বা হতাশ হলেও তারা ঐ দুই বলয়কে এড়িয়ে দায়িত্ব নিয়ে দৃশ্যমান কিছু করবেন এধরণের সাহসও তারা দেখাতে পারছেন না। আর এর ফলে বন্দর আওয়ামী লীগের কিছু সুবিধাবাদি এমপি সমর্থিত হওয়ায় বিভিন্ন সময় এমপির হাত ধরে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। এ তাদের এই সখ্যতার বলি হচ্ছেন তৃণমূল, ত্যাগী ও পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।


 
সুত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের পর থেকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে থাকা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনটি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ছিনিয়ে নেন বন্দর এলাকারই সন্তান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এসএম আকরাম। আর তখন থেকেই চাঙ্গা হতে শুরু করে বন্দর আওয়ামী লীগ। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়কের দায়িত্ব নেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে এসএম আকরামের মনমালিন্য শুরু হয় এবং দুরত্ব বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির আহবায়কের পদ ত্যাগ করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, সে সময় তিনি দলটির সাথে তার আর কোন সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্যও করেন। আর ঠিক সে সময়ের পর থেকে অদ্যাবধি বন্দর আওয়ামী লীগের ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসেননি কেউ। যারাই আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার নাম করেছেন, তারা শুধু আওয়ামী লীগের নামই ব্যবহার করেছেন, প্রকৃত অর্থে তারা তাদের নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের ভাই-ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন, কিংবা তাদের মতো সুবিধাবাদিদের তারা বিভিন্ন পদে বসিয়ে নিজেদের টুপাইস উপার্জনের রাস্তা শুধু প্রশস্তই করেছেন। যারাই এর বাইরে কথা বলছেন বা বলার চেষ্টা করেছেন তাদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এমনকি তাদের কেউ সুবিধাবাদিদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সুবিধাবাদিরা তাদের নিজস্ব লোকের মাধ্যমে সেসব নেতার যত দোষ আছে তা তুলে ধরেন, তাদের শায়েস্তা করার চেষ্টা করেন। অথচ যতক্ষণ তারা কোন প্রতিবাদ না করে, যতদিন ঐসব নেতার তোষামদি করেন ততদিন তাদের কোন দোষই তারা দেখতে পান না। তাই এখনো বন্দর আওয়ামী লীগের নির্যাতিত অবহেলিত নেতৃবৃন্দ অপেক্ষায় আছেন কবে কেউ বন্দর আওয়ামী লীগকে উদ্ধার করতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন