এনায়েতনগরে কালিয়ানী খাল খনন কার্যক্রম শুরু
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২১, ০৮:০১ পিএম
এক সময় মালবাহি নৌযান দাপিয়ে বেড়ালেও দখল দুষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহি কালিয়ানী খালটি। বিশেষ করে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিসিক শিল্পনগরী এলাকার একাধিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে কালিয়ানী খালের বুকে। এতে যেমন সরু হয়েছে প্রশস্ত, তেমনি মিল-ফ্যাক্টরীর বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে খালটি।
ফলে খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন জুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুম চলে আসায় তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অবশেষে জলাবদ্ধতা দূরকরণে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে ভেকু দিয়ে খালের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ। গতকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, আমার এলাকাটি শিল্পনগরী হওয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা এবং শিল্প কারখানার বর্জগুলো ড্রেন ও খালে ফেলার কারনে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের সাংসদ শামীম ওসমান ভাইকেসহ উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা ম্যাডাম ও জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ স্যারকে জানিয়েছি।
তাছাড়া খাল দখলের বিষয়টি নিয়ে জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক যুগের চিন্তায় খুব ভাল করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমরাসহ বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর জেলা প্রশাসক মহোদয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন। গত পরশু তারা সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করেছেন এবং আপাতত খালটিকে ভেকু দিয়ে পরিস্কার করে পানিপ্রবাহ যাতে করা যায়, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
পরবর্তীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে কাজ শুরু হবে। নির্দেশনা মতে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। খালের বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট করেছে ফ্যাক্টরীর মালিকরা। এতে করে ভেকুর কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে, স্থায়ী সমাধান পেতে হলে অবশ্যই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালিয়ানী খালে ৩৪ জন দখলদার রয়েছে। ওই দখলদারদের বিষয়ে দুই দফা তালিকা তৈরীর পরও দখলমুক্ত হয়নি ফতুল্লার ঐতিহ্যবাহি কালিয়ানী খাল। বিভিন্ন অংশে ওই ৩৪ জন দখলদার চালিয়েছেন খাল দখলের রামরাজত্ব। এনায়েতনগর ভূমি অফিসের মাধ্যমে গত বছর খালের দৈর্ঘপ্রস্থ নিরূপণ ও দখলদারের তালিকা তৈরী করেছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সাবেক জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এর সময়ে পরপর দুই দফা ওই তালিকা যায় এসিল্যান্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এরপরও খালটির উদ্ধার কার্যক্রম আলোর মুখ দেখেনি।
ভূমি অফিসের করা ওই তালিকায় উঠে আসা ৩৪ দখলদারের মধ্যে ১৭ জন রয়েছেন গার্মেন্টস, নিটিং ও ডাইং ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে তিনজন অতি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা। তারা হলেন, বিসিকে অবস্থিত ফকির নীট ওয়্যারের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান, ক্রোনী গ্রæপের মালিক আসলাম সানী ও নেভী গার্মেন্টস এর মালিক আব্দুস সালাম। এদের মধ্যে আসলাম সানী বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। অন্যান্যরাও বিকেএমইএ’র বিভিন্ন পদে আছেন।
তারা প্রত্যেকেই আবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছের লোক হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। ফলে কালিয়ানী খাল দখলমুক্ত করণে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতারা- এমন অভিমত ব্যক্ত করছেন সচেতন মহল। তাই, খাল পরিস্কারেই সীমাবদ্ধ নয় বরং স্থায়ী সমাধানের জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।


