পানিতে থৈ থৈ করছে কুতুবপুর, হুমকির মুখে জনজীবন !
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২১, ১০:১০ পিএম
পানিতে থৈথৈ করছে ফতুল্লার কুতুবপুরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুতুবপুরের বিভিন্ন মহল্লার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাড়িঘর। অনেক দিন ধরে এ জলাবদ্ধ পরিস্থিতি চলতে থাকলেও নিষ্কাশনের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। কুতুবপুর ইউনিয়নসীর অভিযোগ, এসব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পনার অভাবে অপরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
এসব ড্রেনগুলোও আটকে আছে ময়লা আবর্জনায়। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সময় মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনার পানি এলাকাবাসীর বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কুতুবপুরের অধিকাংশ সড়কেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া পাগলা রসুলপুর এলাকার বাসিন্দারা মাসের পর মাস এবং দৌলতপুরবাসী বছরব্যাপী জলাবদ্ধতার মধ্যে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাগলা, নয়ামাটি, রসুলপুর, নিশ্চিন্তপুর, আদর্শনগর, শাহী বাজার,দেলপাড়া, নুরবাগ, শরীফবাগ, দৌলতপুর, মুন্সীবাগ, নন্দলালপুর, পিলকুনী, তক্কারমাঠসহ প্রতিটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে তলিয়ে যায় সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ও।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে রসুলপুরবাসী। এ অবস্থায় মহল্লার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও পোশাক কারখানার শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই রসুলপুর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মাসের পর মাস ধরে নোংরা এবং ময়লা পানিতেই চলাচল করতে হয় এ এলাকার বাসিন্দাদের। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে একাধিকবার মৌখিক এবং লিখিতভাবে জানানো হলেও তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ ওয়ার্ডে অবস্থিত অধিকাংশ স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মসজিদ পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী রোকন উদ্দিন রোকন জানান, এ ওয়ার্ডের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করায় ও ড্রেনের ভেতর বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলায় ড্রেন ভরাট হয়ে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে। রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে এ এলাকার পানি খাল দিয়ে নিষ্কাশন হলেও বর্তমানে খালটি ভরাট করে ফেলায় পানি নামতে পারছে না।
ফলে সামান্ন বৃষ্টিতেই এ জলাবদ্ধতার মধ্যে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। অন্যদিকে শাহীবাজার আমতলা এলাকা থেকে কদমতলী পাকার রাস্তা পর্যন্ত যেতে অভ্যান্তরিন এলাকাগুলোতে বছরজুড়েই জলাবদ্ধতা লেগে আছে। বৃষ্টি ও শিল্প-কারখানার দূষিত পানির কারণে জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এইসব এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও দায়িত্বে অবহেলাকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, চলতি মাসেই জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে কুতুবপুরে ঝাড়ু মিছিল বের করেন। এসময় তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের উপর ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


