মঙ্গল বারের বৃষ্টিতে এবার আরো ভয়ানকরূপে ডুবেছে গোটা ডিএনডি এলাকা। গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তায় এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ডিএনডির বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ টেলিফোন করে যুগের চিন্তাকে তাদের ভোগান্তির কথা জানান। মানুষ স্থানীয় এমপি এবং চেয়ারম্যানদের ব্যার্থতাকেও দায়ী করছেন।
ফতুল্লাবাসী তাদের এমপি শামীম ওসমানকে একজন স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর এমপি হিসাবে আখ্যায়িত করছেন। লুৎফর রহমান স্বপনকে একজন আরামপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসাবে আখ্যায়িত করছেন। আর কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপি জামায়াতের লোক হিসাবে আখ্যায়িত করে তার ব্যর্থতা তুলে ধরছেন। দুই চেয়ারম্যানই এমপির লোক হওয়ায় এই তিনজনের ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এদিকে মঙ্গল বারের বৃষ্টিতে ডিএনডির ফতুল্লা এলাকার আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফতুল্লা এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন থেকে খবর পাওয়া গেছে এই দুটি ইউনিয়ন প্রায় সম্পূর্ণরুপে বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে ডিএনডির ইতিহাসে যে সকল এলাকায় পানি জমেনি সেই সকল এলাকাও বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ফলে ফতুল্লা আর কুতুবপুরের মানুষ একেবারে অসহায় হয়ে পরেছে। এতে খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জরিত, কিন্তু আমরা অসহায়। আমার তিনটি বাড়ি বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। আমরা কার কাছে যাবো বুঝতে পারছি না। এটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ যারা করছেন তারা ঠিক মতো কাজ করছেন না। এছাড়া আমাদের এলাকার ইউএনও এবং চেয়ারম্যান সাহেব এসে দেখে গেছেন। তারা কিছু একটা করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কোনো উপকারই পাচ্ছি না। পূরো এলাকা ডুবে গেছে। রাস্তাঘাটতো ডুবেছেই, আমাদের ঘরে ঘরে পানি ডুকেছে। তিনি আরো বলেন আমরা সবাই জানি ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই দফায় তেরো শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
আরো আগেই সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কি কাজ হলো। বছরে বছরে পরিস্থিতো আরো খারাপ হচ্ছে। এবারতো ডিএনডির উচু এলাকাগুলিতেও পানি জমে গেছে। আর বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে একদিন পানি জমলে সাত দিন বৃষ্টি না হলেও এই পানি সরে না। এই অবস্থার কারণ সম্পর্কে মিছির আলী আরো বলেন আসলে ডিএনডির জলাবদ্ধা নিরসনে পরিকল্পিত কোনো কাজই হয়নি। ডিএনডির খালগুলি উদ্ধার করা হয়নি। আর পানির পাম্পগুলি কিভাবে চালানো হচ্ছে সেটাও আমরা জানি না। সব কিছু মিলিয়ে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিয়ে আসলে কি হচ্ছে আমরা কিছুই জানি না। অন্ধকারে রয়েছি আমরা। তাই আমি মনে করি এই ব্যাপারে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহোদ্বয়ের উচিৎ আসলে কি হচ্ছে সেটা জেনে জনগনকে অবহিত করা এবং সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়ে সেটা তদারকি করা।
অপরদিকে এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল খালেক মুন্সি নিজের বেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোষ্ট দিয়ে লিখেছেন, “কুতুবপুরের বাসিন্দারা ডুবতে বসেছে, দেখার কেউ নেই”। তার এই কমেন্টের নিচে গতকাল এই রিপোর্ট লিখার সময় পর্যন্ত অন্তত পঞ্চাশ ব্যাক্তি কমেন্ট করেন। তারা সকলেই কুতুবপুরের জলাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্বাধীন হাসান জয় লিখেছেন কুতুবপুরের মানুষদের দেখার কেউ নেই। আর থাকবে কেমনে, সব যে হাইব্রিড নেতায় ভরা। এছাড়া খালেক মুন্সী যুবলীগের একজন নেতা হয়েও এভাবে জনগনের পক্ষে পোষ্ট দেয়ার কারনে অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানান। পারভেজ ইসলাম লিখেছেন এভাবে মনের কথা গুলো প্রকাশ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রসঙ্গত ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করার জন্য আরো চার বছর আগে সরকার একটি মেঘা প্রকল্প গ্রহণ করে। আর এই প্রকল্পের কাজের জন্য প্রথমে সারে পাঁচশ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। তখন বলা হয়েছিলো এই মোটা অংকের টাকার কাজ শেষ হলে ডিএনডি এলাকা হবে দেশের অন্যতম আবাসিক এলাকা। কিন্তু সেই টাকা শেষ করে আরো সারে সাতশ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতির কোথাও এতোটুকু উন্নয়ন হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটেছে। এই মুহুর্তে গোটা ডিএনডি এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে।


