ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনে আতঙ্ক
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২১, ০৯:০২ পিএম
রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গাবতলী ও দত্তেরকান্দি এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর রূপগঞ্জ অংশে ৩/৪ টি ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে দেখা দিচ্ছে নদীভাঙন । হুমকির মুখে পড়ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান-পাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদী। নদীর পশ্চিম তীরে গাবতলী ও দত্তেরকান্দি গ্রাম। এই দুটি গ্রামে প্রায় ৪/৫ হাজার লোকের বসবাস। রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপসনালয়সহ গ্রামীন অবকাঠামো। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে ফয়সাল, রাব্বি, মামুন ও রিপু মিয়াসহ ৮/১০ জন মিলে গাবতলী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় আরেক প্রভাবশালী আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে জুয়েলের ব্যক্তি মালিকানার জমি ভরাট করছে।
তাছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে কখনো ব্যক্তি মালিকানার জমি ভরাট, কখনো অন্যত্র বালু বিক্রি করছে। ভাঙন রোধে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরূদ্ধে এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও তাদের বাঁধার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে জোর পূর্বক তিন-চারটি স্থানে বালু উত্তোলন করছে অসাধু চক্রটি। বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী বালু ব্যবসায়ীদের বাঁধা দিলেও তাদের মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছে। তাই কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর দুই পাড় ভেঙে যাচ্ছে। বালু উত্তোলন করায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরের মাটি নদীতে ধসে যাচ্ছে। অথচ বালু উত্তোলন করে কতিপয় কিছু বালু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন। আর হুমকির মুখে পড়ছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন জানান, নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন সস্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ। কিছুদিন আগে এলাকাবাসীর সম্মিলিত বাধাঁয় বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। তবে এখন বালু উত্তোলন হচ্ছে কি না তা আমার জানা নেই। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


