নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নে রয়েছে কয়েক শতাধিক সরকার দলীয় নেতা। সেইসব নেতাদের প্রায় দেখা যায় বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যোগদান করে জনগণের সেবক পরিচয় দিতেও। কিন্তু দুঃখের বিষয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশিরভাগ নেতা এলাকা থেকে লাপাত্তা।
একদিকে যেমন লকডাউন অন্যদিকে জলাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখেও অনেকে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। অনেকে আবার মাঝে মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক অসহায়দের সহযোগিতা করে ফটোসেশন করে। এরাই নাকি কুতুবপুরের বিশাল মাপের নেতা। অনেকেই জনগণের কাছে নিজেদের নেতা খেতাবটি ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন বিশাল বাড়ি, কিনেছেন দামী গাড়ি, করেছেন বিশাল অর্থসম্পদ। জনমনে প্রশ্ন তাহলে তারা কি শুধু নিজেদের জন্য নেতা ? যদি তাই না হয়, এমন দুঃসময়ে কুতুবপুরে অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে নেই সেই নেতা নামক লেবাসধারীরা।
কুতুবপুরে জুড়ে কয়েক শতাধিক নেতাদের মধ্যে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন। তিনি তার এই পদবী গায়ে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল বাড়ি, গাড়ি ও অর্থসম্পতি। এ নাজিমকে শুধু করোনা নয়, যে কোনো ধরনের দুর্যোগে কুতুবপুরে অসহায় মানুষের পাশে কখনো দেখা যায়নি। কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন। সে দলের জন্য আওয়ামী লীগ করে কিন্তু মানুষের জন্য না। তাই তাকেও কোনো ধরনের সহযোগিতায় অসহায়দের পাশে থাকতে দেখা যায় না।
কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল চাঁন। সেও রাখেন না তার ইউনিয়নের মানুষের খবর। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহ আলম গাজী টেনু। সে নিজেকে এমপি শামীম ওসমানের বন্ধু। তার রয়েছে আকাশ ছোঁয়া অর্থসম্পতি কিন্তু এমন ক্লান্তিলগনে কুতুবপুরবাসীর পাশে নেই এই এমপির বন্ধু। কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক মুন্সী। তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কামিয়েছেন কোটি টাকা। খালেক ক্ষমতার দাপটে চালিয়ে যাচ্ছেন ইট, বালু, রড, সিমেন্ট ও জমিজমার ব্যবসা। প্রথম লকডাউনে নামদেখানো মাত্র কিছু অসহাদের খাদ্য সহযোগিতা দিয়ে ফটোসেশান করেই যেনো তার দায়িত্ব শেষ।
আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরো রয়েছেন, জাহাঙ্গীর, আলাউদ্দিন হাওলাদার, মীর হোসেন মীরু, আব্দুল মালেক মুন্সী, ও এমএফ খোকন, রাসেল মোল্লা, দ্বীন ইসলামের মতো আরো প্রায় কয়েক শতাধিক নেতা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরুকে দেখা যায় জলাবদ্ধতা ও অসহায় মানুষের পাশে প্রায় সময় সীমিত আকারে। দ্বিতীয় লকডাউনে মীরু হাতপা গুটিয়ে বসে আছেন এসি রুমে । কুতুবপুর ইউনিয়নবাসীর অনেকেই এসব নেতাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে বলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের জন্য লকডাউন অন্যদিকে জলাবদ্ধতায় আমরা ঘরবন্ধী, আমাদের খোঁজ খবর কেউ রাখে না।
আমাদের জীবন বাচাতে এখন অনেকে কষ্ট হয়ে ধারিয়েছে। কুতুবপুরে অনেক নেতা ও বিত্তশালী আছেন তারাও হাতপা গুটিয়ে বসে আছেন। আমাদের কষ্ট-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কুতুবপুরে এমনিতেই কুতুবের অভাব নেই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও জলাবদ্ধতা শুরুর পর থেকে নেতা নামের খেতাবী দেওয়া ব্যক্তিরা কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে এসে না ধারিয়ে তারা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। এসব নামধারী নেতারা শুধু সভা সমাবেশে বড় বড় বক্তৃতা দিয়েই যেনো তাদের দায়িত্ব শেষ। অসহায় মানুষ বলছে, তাদের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।


