Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দরে বেসামাল অপরাধ 

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২১, ০৮:২৫ পিএম

বন্দরে বেসামাল অপরাধ 
Swapno

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, দেশ পরিচালানার দায়িত্বে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেখানে সমগ্র দেশ উন্নয়নের চাকা দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনও শুধু মাত্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে একত্বতার অভাব এবং স্থানীয় কিছু ক্ষমতা লোভী নেতৃবৃন্দের কারণে এখনো বর্বরতম অপরাধ ও নৈরাজ্যে ছেঁয়ে আছে বন্দরের বেশ কিছু এলাকা। একটা সময় ছিল যখন সারা নারায়ণগঞ্জের মানুষ বন্দরের ধামগড়, কলাগাছিয়া ও মুসাপুরের কিছু এলাকার নাম শুনলেই ভয় পেত।

 

সেখানকার মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা খুব বেশী কাজ করতো বলে সেখানে চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, চাঁদাবাজি ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার। এখনও এসব এলাকায় কমবেশী অপরাধ প্রবণতা থাকলেও ধামগড়ের চেহারাটা দিনকে দিন আরো ভয়াবহতার দিকেই যাচ্ছে। এমনকি বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম মদনগঞ্জ মদনপুর সড়কের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এলাকা হলো ধামগড়। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও এই ধামগড় এলাকায় খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে নির্বিঘ্নভাবে।

 

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগেও ধামগড়ের তালতলা ও এর আশেপাশের এলাকা দিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই চলাচল করতে ভয়ে হিমশিম খায় সাধারণ মানুষসহ যানবাহন চালকরা। আর যারা দুর থেকে যানবাহন নিয়ে এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে তাদেরকে পড়তে হয় ডাকাত কিংবা চাঁদাবাজদের মুখে, হারাতে হয় সর্বস্ব, এমনকি নির্বিঘ্নে খুন হওয়াও এখানে যেন খুব সাধারণ কোন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। পরপর ডাকাতদের হাতে নিহত হওয়ার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকার নৌ পথেও পরিবহন চলাচল নিরাপদ নয়। বাল্ক হেড ও কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানে এখানে ডাকাতি হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনায়াসে খুন হতে হয় জাহাজ স্টাফদের। আর এসব ঘটে এখানকার স্থানীয় প্রভাশালী আওয়ামী লীগের নামধারী নেতাসহ স্থানীয় স্বার্থবাজ, অর্থলোভী ও ক্ষমতাবান লোকের ছত্রছায়ায়।

 

এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, এসব অনেক ঘটনার সাথেই এলাকার অনেক ক্ষমতাবানদের আত্মীয় স্বজন, ভাই-ভাতিজা কিংবা তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা জড়িত। এখানকার প্রভাবশালী নেতারা যদি তাদের প্রশ্রয় না দিত, তাহলে এসব ঘটনা অনেক আগেই দুর হয়ে যেত। আর যেহেতু এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এবং আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল, তাই এই দলের কাছ থেকে মানুষের আশাটা একটু বেশীই। ঠিক এই কারণেই এসব ঘটনার দায়ভার আওয়ামী লীগের উপরই বর্তায়। এসব ঘটনায় যখন আওয়ামী লীগের নামধারী বেশ কিছু নেতার আত্মীয় স্বজনের সাঙ্গপাঙ্গদের নাম আসে, এখানকার বিভিন্ন মাদক আড্ডায় যখন এসব লোকের নাম আসে তখন তা এখানকার ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের জন্যই অশুভ বার্তা দেয়।

 

বিভিন্ন সূত্র জানায়, স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতারা মনে করে, যে দলটি স্বাধীনতা থেকে পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে সেই আওয়ামী লীগের শুধু একতাবদ্ধের অভাবে আজ এসব এলাকায় মানুষের এধরণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর এর জন্য দরকার আওয়ামী লীগের প্রতি সত্যিকারের ভালবাসা। আর এর জন্য সঠিক ভ‚মিকা রাখতে পারেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, ওসমান পরিবারের আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

 

তবে যেহেতু সাংসদ সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি সমর্থিত তাই স্বভাবতই এখানকার জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের উপর তার প্রভাব পড়বে এবং তারা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের তুলনায় (আওয়ামী লীগের স্বার্থবাজ নেতা ছাড়া) সাংসদের কাছে বেশী ভিড়তে পারবে। এসব এলাকার আওয়ামী লীগের প্রকৃত ত্যাগী নেতারা তাদের দলের ইমেজের কথা চিন্তা করে জাতীয় পার্টির সাংসদের কাছে ঘেঁষাটাকে অনেকটাই অপছন্দ করবে। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমান যেহেতু আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং বন্দরে এখনো তার একটা বিশাল প্রভাব আছে তাই তিনি এখানকার সাংসদ না হলেও এখানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ যে একটা ফাঁকা (গ্যাপ) অবস্থা তৈরী হয়েছে তা পুরণে শামীম ওসমানের ভূমিকা অনেকটাই ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। আর যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ওসমান পরিবারের অবদান আছে সেহেতু বন্দর আওয়ামী লীগকে পুনরুদ্ধারে তৃণমূলকে সংগঠিত করে এলাকা থেকে নৈরাজ্য দুর করতে শামীম ওসমানকে এই দায়িত্বটা দলের স্বার্থেই নিতে হবে। একই সাথে মেয়রসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে দৃঢ় ভুমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন বন্দর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন